স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চার বছর বয়সী শিশু তাসনীম সুমাইয়ার মৃত্যু হয়েছে। জ্বর শুরুর পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে একে একে তিনটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১১ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। ছোট্ট মেয়েকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ পরিবারটি।
তাসনীম চট্টগ্রাম নগরীর দক্ষিণ কাট্টলীর আব্দুর পাড়ার বাসিন্দা গার্মেন্টসকর্মী মো. সালাহউদ্দিনের ছোট মেয়ে। তিন মেয়ের মধ্যে সবার ছোট তাসনীমকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল তার বাবার।
আগামী জানুয়ারিতে মেয়েকে একটি ভালো মাদরাসায় ভর্তি করানোর পরিকল্পনাও করেছিলেন তিনি। কিন্তু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে শিশুটির মৃত্যুতে সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে।
পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে হাসপাতাল নিউজ২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৭ সেপ্টেম্বর তাসনীমের জ্বর শুরু হয়। পরদিন স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করালে তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। ওষুধ ও স্যালাইন দেওয়ার পর কিছুটা স্বাভাবিক মনে হলেও পরে তার বমি শুরু হয় এবং রক্তচাপ দ্রুত কমতে থাকে।
শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৯ সেপ্টেম্বর তাকে চট্টগ্রাম নগরীর মা ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে সেখানে কোনো শয্যা খালি না থাকায় তাকে ভর্তি করানো সম্ভব হয়নি।
পরদিন প্রথমে ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয় তাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।
তাসনীমের মৃত্যুর এক মাস পেরিয়ে গেলেও শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি বাবা সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, তিন মেয়ের মধ্যে তাসনীম ছিল সবচেয়ে ছোট। মেয়েটিকে ঘিরে তার অনেক আশা ছিল। কিন্তু ডেঙ্গু সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না, আদরের মেয়েটি আর ঘরে ফিরে আসবে না।
পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, তাসনীম ছিল শান্ত স্বভাবের শিশু। অন্য শিশুদের মতো খেলাধুলা ও বায়নার চেয়ে গজল শুনতে বেশি পছন্দ করত সে। মেয়ের ধর্মীয় অনুরাগ দেখে তাকে মাদরাসায় পড়ানোর পরিকল্পনা করেছিলেন বাবা।
একটি শিশুর মৃত্যুতে পরিবারটির স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গুর ভয়াবহতা ও আক্রান্ত রোগীর জন্য সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার গুরুত্বও সামনে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, জ্বরের সঙ্গে বারবার বমি, রক্তচাপ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত দুর্বলতা কিংবা অন্য কোনো বিপৎসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর অবস্থা দ্রুত গুরুতর হতে পারে বলে চিকিৎসকের পরামর্শ ও পর্যবেক্ষণ জরুরি।