স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
গর্ভাবস্থার প্রতিটি ধাপেই গর্ভের শিশুর সঠিক বৃদ্ধি, সুস্থতা এবং সম্ভাব্য জটিলতা পর্যবেক্ষণে আল্ট্রাসনোগ্রাফি (USG) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা।
বিশেষ করে Pregnancy Profile (USG of P/P) রিপোর্টে থাকা বিভিন্ন তথ্য অনেক গর্ভবতী মা ও পরিবারের সদস্যদের কাছে জটিল মনে হয়। ফলে রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর অনেকেই অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগে ভোগেন।
গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. ফাহমিদা মাহবুবার মতে, ইউএসজি রিপোর্টের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে সাধারণ ধারণা থাকলে রিপোর্ট বোঝা সহজ হয় এবং অযথা দুশ্চিন্তা কমে।
রিপোর্টে প্রথমেই উল্লেখ থাকে Gestational Age (GA) বা গর্ভের শিশুর বয়স এবং Expected Date of Delivery (EDD) বা সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ।
উদাহরণ হিসেবে একটি রিপোর্টে শিশুর বয়স ২৭ সপ্তাহ ৫ দিন এবং সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, এটি একটি সম্ভাব্য তারিখ মাত্র। নির্ধারিত সময়ের কয়েক দিন আগে বা পরে প্রসব হওয়াও স্বাভাবিক।
এছাড়া শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি মূল্যায়নের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপ নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে BPD (Biparietal Diameter), যা শিশুর মাথার এক পাশ থেকে অন্য পাশের দূরত্ব নির্দেশ করে; AC (Abdominal Circumference), যা শিশুর পেটের পরিধি পরিমাপ করে; এবং FL (Femur Length), যা শিশুর উরুর হাড়ের দৈর্ঘ্য নির্ণয় করে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে শিশুর আনুমানিক ওজনও নির্ধারণ করা হয়।
উদাহরণস্বরূপ, ২৭ সপ্তাহে প্রায় ১ হাজার ১৫০ গ্রাম ওজনকে স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
রিপোর্টে শিশুর অবস্থান বা Presentation-ও উল্লেখ থাকে। যদি Cephalic Presentation লেখা থাকে, তাহলে বুঝতে হবে শিশুর মাথা নিচের দিকে রয়েছে, যা স্বাভাবিক প্রসবের জন্য সবচেয়ে উপযোগী অবস্থান। পাশাপাশি শিশুর নড়াচড়া (Fetal Movement) এবং হৃদস্পন্দন (Fetal Heart Rate) পরীক্ষা করা হয়। প্রতি মিনিটে প্রায় ১৪১ বার হৃদস্পন্দন এবং স্বাভাবিক নড়াচড়া শিশুর সুস্থতার ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।
এছাড়া Amniotic Fluid বা গর্ভের পানির পরিমাণ এবং Placenta বা গর্ভফুলের অবস্থানও মূল্যায়ন করা হয়। রিপোর্টে যদি Amniotic Fluid "Adequate" উল্লেখ থাকে, তবে পানির পরিমাণ স্বাভাবিক রয়েছে বলে ধরা হয়। আর Placenta যদি জরায়ুর সামনের দেয়ালে বা Anterior অবস্থানে থাকে, সেটিও সাধারণত স্বাভাবিক একটি অবস্থান।
বিশেষজ্ঞরা জানান, গর্ভাবস্থার তৃতীয় ত্রৈমাসিকে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে পেটব্যথা, রক্তপাত, শিশুর নড়াচড়া কমে যাওয়া বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে গাইনি বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
চিকিৎসকদের মতে, ইউএসজি রিপোর্টে থাকা বিভিন্ন তথ্য সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকলে গর্ভবতী মা ও পরিবারের সদস্যরা আরও সচেতন হতে পারবেন এবং গর্ভকালীন সেবা গ্রহণে আত্মবিশ্বাসী হবেন।