স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
শিশুদের অন্ধত্ব প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অপুষ্টিজনিত জটিলতা কমাতে দেশে নিয়মিত জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়। এই ক্যাম্পেইনে নির্ধারিত বয়সী লাখো শিশুকে বিনামূল্যে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যাম্পেইনে শিশুকে নিয়ে যাওয়ার আগে মা-বাবার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা থাকলে ভিটামিন-এ কর্মসূচির সুফল আরও বাড়বে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন-এ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। এটি চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে, অন্ধত্ব প্রতিরোধে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কোন বয়সের শিশুকে ভিটামিন-এ খাওয়ানো হয়?
জাতীয় কর্মসূচি অনুযায়ী—
৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশু পায় একটি নীল রঙের ক্যাপসুল (১ লাখ আন্তর্জাতিক একক বা IU)।
১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশু পায় একটি লাল রঙের ক্যাপসুল (২ লাখ আন্তর্জাতিক একক বা IU)।
মা-বাবার যেসব বিষয় জানা জরুরি:
১. বয়স নিশ্চিত করুন শিশুর বয়স অনুযায়ী সঠিক মাত্রার ক্যাপসুল দেওয়া হয়। তাই জন্মতারিখ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য সঙ্গে রাখুন।
২. শিশুকে না খাইয়ে নেওয়ার প্রয়োজন নেই অনেকের ধারণা, খালি পেটে ভিটামিন-এ খাওয়াতে হয়। এটি ভুল। শিশু স্বাভাবিকভাবে খেয়ে বা বুকের দুধ পান করেই ক্যাম্পে যেতে পারে।
৩. অসুস্থ হলেও অনেক ক্ষেত্রে খাওয়ানো যায় সর্দি, কাশি, হালকা জ্বর বা সাধারণ অসুস্থতা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিরাপদ। তবে গুরুতর অসুস্থ হলে দায়িত্বরত স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নিতে হবে।
৪. শিশুকে জোর করে ক্যাপসুল গিলতে দেওয়া হয় না ক্যাপসুলের খোসা গিলতে হয় না। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী ক্যাপসুল কেটে ভেতরের তরল অংশ শিশুর মুখে খাওয়ান।
৫. একই দিনে একাধিক ক্যাপসুল নয় শিশুকে নির্ধারিত দিনে একবারই ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে। ভুলবশত একাধিকবার খাওয়ানো উচিত নয়।
৬. টিকা নেওয়া শিশুদেরও ভিটামিন-এ প্রয়োজন ভিটামিন-এ কোনো টিকার বিকল্প নয়। নিয়মিত টিকা গ্রহণের পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে ভিটামিন-এ ক্যাপসুলও খাওয়াতে হবে।
৭. বুকের দুধ ও পুষ্টিকর খাবার চালিয়ে যেতে হবে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল একটি সম্পূরক ব্যবস্থা। এটি কখনোই শিশুর সুষম খাদ্য বা বুকের দুধের বিকল্প নয়। শিশুকে নিয়মিত বুকের দুধ, শাকসবজি, হলুদ ও কমলা রঙের ফল, ডিম, মাছ, দুধসহ পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে।
ভিটামিন-এ খাওয়ার পর কী হতে পারে?
বিশেষজ্ঞরা জানান, অধিকাংশ শিশুর কোনো সমস্যা হয় না। তবে খুব অল্পসংখ্যক শিশুর সাময়িকভাবে বমি বমি ভাব, হালকা বমি বা অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, যা সাধারণত দ্রুত সেরে যায়। গুরুতর কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে।
কেন ভিটামিন-এ এত গুরুত্বপূর্ণ?
ভিটামিন-এ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, চোখের কর্নিয়া সুরক্ষিত রাখে, রাতকানা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং হামসহ বিভিন্ন সংক্রমণের জটিলতা ও শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ:
স্বাস্থ্য বিভাগ সকল অভিভাবককে নির্ধারিত তারিখে নিকটস্থ টিকাদান বা ভিটামিন-এ ক্যাম্পে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য এড়িয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের পরামর্শ অনুসরণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়াতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগে, কিন্তু এর সুফল শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি রক্ষা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।