স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

জামাল হোসাইন, বিশেষ প্রতিনিধি
  ৮ অগাস্ট ২০২৬, ০১:১৫ পি এম

বেড সংকটের আড়ালে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে!

ছবি: সংগৃহীত

হৃদরোগের মতো জটিল ও জরুরি রোগে আক্রান্ত মানুষের কাছে সময়ই সবচেয়ে বড় সম্পদ হলেও দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (এনআইসিভিডি)-এ চিকিৎসার পাশাপাশি বেড পেতেও রোগী ও স্বজনদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বেড বরাদ্দকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ সরকারি স্বাস্থ্যসেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেক রোগী বেড পাচ্ছেন না। কেউ কেউ দুই দিন পর্যন্ত ভর্তি অবস্থায় বেডের অপেক্ষায় থাকলেও, নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দেওয়ার পর অপেক্ষমাণ অন্য রোগী দ্রুত বেড পেয়ে যাচ্ছেন। তাদের দাবি, টাকার বিনিময়ে প্রতিদিনই বেডের ব্যবস্থা করে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মচারী বা দালালচক্র বেড সংকটকে পুঁজি করে অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে। যদিও এই অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক রোগী জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে বেড সংকট একটি বাস্তব সমস্যা। কিন্তু সেই সংকটের সুযোগে যদি কোনো ধরনের অনিয়ম বা আর্থিক লেনদেন ঘটে, তবে তা শুধু নীতিগতভাবেই নয়, রোগীর জীবন ও চিকিৎসা অধিকারকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে।

হৃদরোগের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বেড না পেয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা কিংবা অর্থের বিনিময়ে অগ্রাধিকার পাওয়ার অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি করেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বেড বরাদ্দ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে। অপেক্ষমাণ রোগীদের তালিকা প্রকাশ, জরুরি রোগীদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা, বেড খালি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী বরাদ্দ এবং অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা হলে এ ধরনের অভিযোগ অনেকাংশে কমে আসতে পারে।

এছাড়া হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি নজরদারি জোরদার, রোগী ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং দালাল বা অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবিও জানিয়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

রোগী ও স্বজনদের দাবি, বেড বরাদ্দের পুরো প্রক্রিয়া স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উচিত তথ্য-প্রমাণসহ বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরী বলেন, "হাসপাতালে বেড বরাদ্দ নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী করা হয়। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম বা অর্থ লেনদেনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোগীদের হয়রানি বা দুর্নীতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।"