স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

জামাল হোসাইন, বিশেষ প্রতিনিধি
  ৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৩ পি এম

৯৭৪ মিডওয়াইফের নতুন পদ সৃজন, দ্রুতই ৫৯৮ জনের পদায়ন ও নতুন নিয়োগ

ছবি: সংগৃহীত

দেশের মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবায় নতুন গতি আনতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে দক্ষ মিডওয়াইফের সংখ্যা বাড়াতে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের আওতায় রাজস্ব খাতে অস্থায়ীভাবে ৯৭৪টি নতুন ‘মিডওয়াইফ’ পদ সৃজনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি ইতোমধ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত ৫৯৮ জন মিডওয়াইফকে দ্রুত কর্মস্থলে পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করতে নতুন করে মিডওয়াইফ নিয়োগের প্রক্রিয়াও দ্রুত শুরু হবে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করা এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত মানসম্মত প্রসূতি সেবা পৌঁছে দিতে সরকার মিডওয়াইফারি সেবার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে। দক্ষ মিডওয়াইফের উপস্থিতি বাড়লে গর্ভবতী মা ও নবজাতকের জন্য আরও উন্নত ও সময়োপযোগী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। আদেশ অনুযায়ী, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের আওতায় সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ৯৭৪টি মিডওয়াইফ পদ সৃজন করা হয়েছে।

নতুন এসব পদ রাজস্ব খাতের অস্থায়ী পদ হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে। জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী গ্রেড-১০-এর (১৬,০০০-৩৮,৬৪০ টাকা) বেতন স্কেলে এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।

সরকারি হাসপাতাল, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রসূতি সেবার চাপ বিবেচনায় এসব পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে দক্ষ মিডওয়াইফের ঘাটতি কমবে এবং নারীরা আরও সহজে নিরাপদ প্রসবসেবা পাবেন বলে আশা করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ইতোমধ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত ৫৯৮ জন মিডওয়াইফকে দ্রুত কর্মস্থলে পদায়নের কার্যক্রম চলছে। পদায়ন সম্পন্ন হলে তারা দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, “মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে দক্ষ জনবল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিডওয়াইফরা শুধু প্রসব করানোর দায়িত্ব পালন করেন না, তারা গর্ভকালীন পরিচর্যা, প্রসবকালীন জটিলতা শনাক্তকরণ, প্রসব-পরবর্তী সেবা এবং নবজাতকের প্রাথমিক পরিচর্যাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।”

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মাতৃমৃত্যু কমানোর ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন দক্ষ মিডওয়াইফ গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি আগেই শনাক্ত করতে পারেন এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে রেফার করতে পারেন।

বিশেষ করে দেশের গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে অনেক নারী সময়মতো প্রসূতি সেবা পান না, সেখানে মিডওয়াইফের উপস্থিতি নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে দক্ষ মিডওয়াইফের ঘাটতি ছিল। নতুন পদ সৃজন ও নিয়োগের মাধ্যমে এই সংকট ধীরে ধীরে কমবে। একই সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল ও অন্যান্য সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে প্রসূতি সেবার সক্ষমতা বাড়বে।

সরকারের এই উদ্যোগ শুধু নতুন পদ সৃজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। স্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় আরও নতুন মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত নতুন নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হবে।

বিশ্বজুড়ে মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যুহার কমাতে মিডওয়াইফারি সেবাকে অত্যন্ত কার্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশেও নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নতুন ৯৭৪টি পদ সৃজন, ৫৯৮ জনের দ্রুত পদায়ন এবং নতুন নিয়োগের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই উদ্যোগের ফলে সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে প্রসূতি সেবার মান বাড়বে, মায়েদের ঝুঁকি কমবে এবং নবজাতকের সুস্থ জীবন নিশ্চিত করার পথ আরও সুগম হবে।