স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৮ পি এম

বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় ডিম্বাশয়ের গুরুতর জটিলতা এড়াতে যে সতর্কতা জরুরি

ছবি: সংগৃহীত

বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় আধুনিক প্রযুক্তি ও ওষুধের ব্যবহারে সন্তান ধারণের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ চিকিৎসা অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে হতে হবে। কারণ প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ ও সতর্কতা অনুসরণ না করলে ডিম্বাশয়ের একটি গুরুতর জটিলতা, ওভারিয়ান হাইপারস্টিমুলেশন সিনড্রোম (ওএইচএসএস) দেখা দিতে পারে, যা বিরল হলেও কখনও কখনও জীবনহানির কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ভাষ্য, বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় ওভুলেশন ইন্ডাকশন বা ডিম্বাশয় উদ্দীপনার জন্য গোনাডোট্রপিনসহ বিভিন্ন হরমোনজাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এসব ওষুধের প্রতি কোনো কোনো রোগীর ডিম্বাশয় অতিরিক্ত সাড়া দিলে ওভারিয়ান হাইপারস্টিমুলেশন সিনড্রোম বা ওএইচএসএস দেখা দেয়। তবে বর্তমানে রোগীর শারীরিক অবস্থা, বয়স, ওভারিয়ান রিজার্ভ এবং অন্যান্য ঝুঁকির বিষয় বিবেচনা করে সঠিক মাত্রায় ওষুধ প্রয়োগ, নিয়মিত আল্ট্রাসনোগ্রাফি এবং প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

চিকিৎসকরা জানান, বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা কেবল ওষুধ দেওয়ার বিষয় নয়; এটি একটি বিজ্ঞানভিত্তিক ও নিবিড় পর্যবেক্ষণনির্ভর চিকিৎসা। ফলিকলের বৃদ্ধি, হরমোনের মাত্রা এবং রোগীর শারীরিক পরিবর্তন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনে চিকিৎসা পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হয়। কখনও ওষুধের মাত্রা কমানো, কখনও নির্দিষ্ট ইনজেকশন পরিবর্তন, আবার প্রয়োজনে চিকিৎসার একটি ধাপ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তও নিতে হতে পারে। এসব সিদ্ধান্ত সঠিক সময়ে নেওয়া গেলে গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, অনভিজ্ঞ ব্যক্তি বা যথাযথ পর্যবেক্ষণ ছাড়া ওভুলেশন ইন্ডাকশন করানো হলে ওএইচএসএস গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। এ অবস্থায় রোগীর পেটে ও বুকে পানি জমা, পেট ফুলে যাওয়া, তীব্র পেটব্যথা, দ্রুত ওজন বৃদ্ধি, বমি বমি ভাব, শ্বাসকষ্ট, প্রস্রাব কমে যাওয়া, রক্ত ঘন হয়ে যাওয়া, কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়া এবং রক্ত জমাট বাঁধার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে রোগীর জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ, বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা শুরু করার আগে চিকিৎসকের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া উচিত। চিকিৎসাকালীন নির্ধারিত সময়ে আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো, নিয়মিত ফলো-আপে থাকা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন না করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসার সময় কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা, সঠিক চিকিৎসক নির্বাচন এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণই বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসাকে নিরাপদ করে তোলে। তাই কাঙ্ক্ষিত মাতৃত্বের স্বপ্ন পূরণে দ্রুততার চেয়ে নিরাপদ ও বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসাকেই গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।