স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
বিশ্বজুড়েই বাড়ছে সময়ের আগে বা অকাল শিশুর জন্ম। গর্ভধারণের ৩৭ সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার আগে শিশুর জন্ম হলে তাকে প্রি-টার্ম বা অকাল জন্ম বলা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) হিসাবে, ২০২০ সালে বিশ্বে প্রায় ১ কোটি ৩৪ লাখ শিশু প্রি-টার্ম জন্ম নেয়—অর্থাৎ বিশ্বের প্রায় প্রতি ১০ শিশুর একজন সময়ের আগেই জন্মেছে।
অকাল জন্মের হার সব দেশে সমান নয়। WHO-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে বিভিন্ন দেশে এই হার প্রায় ৪ থেকে ১৬ শতাংশের মধ্যে ছিল। দক্ষিণ এশিয়ায় হার তুলনামূলকভাবে বেশি ২০২০ সালে এ অঞ্চলে প্রায় ১৩.২ শতাংশ শিশু প্রি-টার্ম জন্মেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সর্বশেষ ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ৩ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি শিশু প্রি-টার্ম জন্মেছে, যা মোট জীবিত জন্মের ১০.৪ শতাংশ—অর্থাৎ সেখানেও প্রায় প্রতি ১০ শিশুর একজন সময়ের আগে জন্ম নিচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে অকাল জন্মের পেছনে মায়ের স্বাস্থ্য, অপর্যাপ্ত গর্ভকালীন চিকিৎসা, সংক্রমণ, অপুষ্টি, দীর্ঘমেয়াদি রোগ এবং স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্যের মতো নানা কারণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে অকাল শিশুর চিকিৎসা ও নবজাতক পরিচর্যার সুযোগ সীমিত হওয়ায় ঝুঁকি আরও বেশি।
অকাল জন্ম শুধু শিশুর জন্মের সময়কেই এগিয়ে দেয় না, এটি শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাস, সংক্রমণসহ বিভিন্ন জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। WHO বলছে, প্রি-টার্ম জন্মের জটিলতা বিশ্বজুড়ে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক অকাল জন্ম ও এর জটিলতা প্রতিরোধ বা কমানো সম্ভব। গর্ভধারণের আগে মায়ের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা, গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা দ্রুত শনাক্ত করা এবং জন্মের পর প্রি-টার্ম শিশুর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থাৎ, অকাল জন্ম এখন শুধু কোনো একটি দেশের সমস্যা নয় এটি একটি বৈশ্বিক মাতৃ ও শিশুসাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। বিশ্বে প্রতি ১০ শিশুর একজনের সময়ের আগে জন্ম নেওয়ার এই চিত্রই সমস্যাটির ব্যাপকতা তুলে ধরে।