স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ৪ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৩ পি এম

দাঁতের ইনফেকশন হতে পারে মারাত্মক: ডা. আতিয়া শাহনাজ

ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন: অনেকেই মনে করেন দাঁতের ইনফেকশন মানেই শুধু দাঁতের ব্যথা। আসলে বিষয়টি কতটা গুরুতর?

ডা. আতিয়া শাহনাজ: এটি একটি বড় ভুল ধারণা। দাঁতের ইনফেকশন শুধু মুখের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা না করলে সংক্রমণ দাঁতের আশপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিরল হলেও গুরুতর ক্ষেত্রে জীবাণু রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে সেপসিসের মতো জীবন-ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। তাই দাঁতের ইনফেকশনকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।

প্রশ্ন: দাঁতে ইনফেকশন সাধারণত কীভাবে শুরু হয়?

ডা. আতিয়া শাহনাজ: দাঁতে গভীর ক্যারিজ বা ক্ষয়, দাঁতে ফাটল, আঘাত কিংবা পুরোনো বা লিকেজ হওয়া ফিলিং বা রেস্টোরেশনের মাধ্যমে জীবাণু দাঁতের ভেতরের পাল্পে পৌঁছে যায়। এরপর সেখানে সংক্রমণ তৈরি হয়। সময়মতো চিকিৎসা না করলে দাঁতের গোড়ায় বা মাড়ির আশপাশে পুঁজ জমে ডেন্টাল অ্যাবসেস তৈরি হতে পারে।

প্রশ্ন: কোন কোন লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন?

ডা. আতিয়া শাহনাজ: কয়েকটি লক্ষণকে গুরুত্ব দিতে হবে। যেমন—

  • তীব্র ও ক্রমাগত দাঁতের ব্যথা,
  • মুখ, মাড়ি বা চোয়াল ফুলে যাওয়া,
  • জ্বর,
  • চিবানো বা কামড়ানোর সময় ব্যথা,
  • মুখে দুর্গন্ধ বা পুঁজ বের হওয়া,
  • গিলতে বা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।

বিশেষ করে গিলতে বা শ্বাস নিতে সমস্যা হলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

প্রশ্ন: দাঁতের ইনফেকশন কি সত্যিই প্রাণঘাতী হতে পারে?

ডা. আতিয়া শাহনাজ: অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সঠিক চিকিৎসায় রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে যদি দীর্ঘদিন সংক্রমণ অবহেলা করা হয়, তাহলে এটি আশপাশের গভীর টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। খুব বিরল ক্ষেত্রে জীবাণু রক্তে প্রবেশ করে সেপসিসের মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে, যা জরুরি চিকিৎসা ছাড়া প্রাণঘাতী হতে পারে।

প্রশ্ন: এমন পরিস্থিতিতে কী ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হয়?

ডা. আতিয়া শাহনাজ: প্রথমে সংক্রমণের মাত্রা নির্ণয় করা হয়। প্রয়োজন হলে জমে থাকা পুঁজ বের করে দেওয়া হয়। এরপর দাঁত সংরক্ষণ করা সম্ভব হলে রুট ক্যানেল ট্রিটমেন্ট (RCT) করা হয়। যদি দাঁতটি আর সংরক্ষণ করা সম্ভব না হয়, তাহলে এক্সট্রাকশন বা দাঁত তুলে ফেলতে হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণের ধরন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিকও প্রয়োজন হতে পারে, তবে তা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করতে হবে।

প্রশ্ন: অনেকেই ব্যথার ওষুধ খেয়ে কয়েকদিন অপেক্ষা করেন। এটি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

ডা. আতিয়া শাহনাজ: ব্যথার ওষুধ সাময়িকভাবে ব্যথা কমাতে পারে, কিন্তু সংক্রমণের মূল কারণ দূর করে না। ফলে রোগী মনে করেন সমস্যা কমে গেছে, অথচ ভেতরে ভেতরে ইনফেকশন ছড়িয়ে যেতে থাকে। তাই শুধু ব্যথার ওষুধ খেয়ে বসে না থেকে দ্রুত ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্রশ্ন: দাঁতের ইনফেকশন প্রতিরোধে সাধারণ মানুষ কী করতে পারেন?

ডা. আতিয়া শাহনাজ: প্রতিদিন অন্তত দুইবার ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করতে হবে, নিয়মিত ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করা উচিত এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার কম খেতে হবে। এছাড়া বছরে অন্তত এক থেকে দুইবার ডেন্টাল চেকআপ করালে অনেক সমস্যাই প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা সম্ভব।

প্রশ্ন: সাধারণ মানুষের জন্য আপনার শেষ পরামর্শ কী?

ডা. আতিয়া শাহনাজ: দাঁতের ব্যথা, মাড়ি ফোলা বা পুঁজ হওয়াকে কখনোই ছোট সমস্যা মনে করবেন না। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিলে দাঁতও রক্ষা করা যায়, আবার গুরুতর জটিলতার ঝুঁকিও অনেক কমে যায়। তাই দাঁতের যেকোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত একজন নিবন্ধিত ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন।

ডা. আতিয়া শাহনাজ
বিডিএস (ঢাকা)
পিজিটি (ওএমএস)
BM&DC Reg. No. 12338
ঢাকা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল