স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২১ জুন ২০২৬, ০৮:০৬ পি এম

নিরাপদ মাতৃত্ব: সুস্থ মা ও সুস্থ শিশুর জন্য সচেতনতার বিকল্প নেই

ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন: নিরাপদ মাতৃত্ব বলতে আসলে কী বোঝায়?

ডা. আফরোজা সিদ্দিকা: নিরাপদ মাতৃত্ব বলতে গর্ভধারণের শুরু থেকে সন্তান জন্মদান এবং প্রসবোত্তর সময় পর্যন্ত মা ও শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করাকে বোঝায়। একজন মা যেন সুস্থভাবে গর্ভকাল অতিক্রম করতে পারেন এবং নিরাপদভাবে সন্তান জন্ম দিতে পারেন, সেটিই নিরাপদ মাতৃত্বের মূল লক্ষ্য।

প্রশ্ন: একজন নারী কখন মা হওয়ার পরিকল্পনা শুরু করবেন?

ডা. আফরোজা সিদ্দিকা: সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তের অন্তত তিন থেকে ছয় মাস আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। এ সময় স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় টিকা, পুষ্টি মূল্যায়ন এবং ফোলিক অ্যাসিড গ্রহণ শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ। এতে মা ও শিশুর বিভিন্ন জটিলতার ঝুঁকি কমে যায়।

প্রশ্ন: গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চেকআপ কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

ডা. আফরোজা সিদ্দিকা: নিয়মিত চেকআপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে মায়ের রক্তচাপ, রক্তশূন্যতা, ডায়াবেটিস, শিশুর বৃদ্ধি ও অবস্থানসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করা যায়। অনেক জটিলতা প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।

প্রশ্ন: গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের খাদ্যাভ্যাস কেমন হওয়া উচিত?

ডা. আফরোজা সিদ্দিকা: গর্ভবতী মায়ের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি, ফলমূল, দুধ, ডিম, মাছ ও স্বাস্থ্যকর শর্করা থাকতে হবে। প্রচুর পানি পান করতে হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন গ্রহণ করতে হবে।

প্রশ্ন: গর্ভাবস্থায় কোন কোন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন?

ডা. আফরোজা সিদ্দিকা: অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, তীব্র মাথাব্যথা, হাত-পা ফুলে যাওয়া, ঝাপসা দেখা, শিশুর নড়াচড়া কমে যাওয়া, খিঁচুনি, তীব্র পেটব্যথা কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে আসতে হবে। এসব লক্ষণ জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে।

প্রশ্ন: বর্তমান সময়ে অনেক নারী বন্ধ্যাত্ব সমস্যায় ভুগছেন। বিষয়ে আপনার পরামর্শ কী?

ডা. আফরোজা সিদ্দিকা: বিয়ের এক বছর নিয়মিত দাম্পত্য জীবনের পরও সন্তান না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বয়স ৩৫ বছরের বেশি হলে ছয় মাস অপেক্ষা করলেই যথেষ্ট। আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে অধিকাংশ বন্ধ্যাত্ব সমস্যার সমাধান সম্ভব।

প্রশ্ন: প্রসবের জন্য হাসপাতাল নির্বাচন কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

ডা. আফরোজা সিদ্দিকা: অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে অভিজ্ঞ প্রসূতি বিশেষজ্ঞ, নবজাতক বিশেষজ্ঞ, জরুরি সেবা ও আধুনিক সুবিধা রয়েছে, এমন হাসপাতালে প্রসব করানো নিরাপদ। এতে মা ও নবজাতকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

প্রশ্ন: সিজারিয়ান স্বাভাবিক প্রসব নিয়ে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। আপনার মতামত কী?

ডা. আফরোজা সিদ্দিকা: আমরা সবসময় স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করি। তবে মা ও শিশুর নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজন হলে সিজারিয়ান অপারেশন করতে হয়। কোন পদ্ধতি উপযুক্ত হবে, তা রোগীর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসাগত প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে।

প্রশ্ন: প্রসবের পর মায়ের যত্ন কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ডা. আফরোজা সিদ্দিকা: অনেকেই মনে করেন সন্তান জন্মের পর দায়িত্ব শেষ। আসলে প্রসবোত্তর সময়টিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে মায়ের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি, বিশ্রাম এবং শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর বিষয়ে বিশেষ যত্ন প্রয়োজন।

প্রশ্ন: মা হতে ইচ্ছুক নারীদের জন্য আপনার বার্তা কী?

ডা. আফরোজা সিদ্দিকা: মা হওয়ার প্রথম যাত্রাটি হোক সচেতনতা, পরিকল্পনা ও সঠিক চিকিৎসা পরামর্শের মাধ্যমে। গর্ভধারণ থেকে সন্তান জন্মদান পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকুন। মনে রাখবেন, নিরাপদ মাতৃত্ব মানেই সুস্থ মা, সুস্থ শিশু এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ।

ডা. আফরোজা সিদ্দিকার বার্তা:
"মা হওয়ার প্রথম জার্নিটা শুরু হোক নিরাপদ হাতে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সঠিক পুষ্টি এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শই পারে নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে।"

ডা. আফরোজা সিদ্দিকা
সিনিয়র কনসালটেন্ট, অবস, গাইনি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি
প্রসূতি, স্ত্রীরোগ, বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন, বিআরবি হসপিটাল