স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাস বা তৃতীয় ত্রৈমাসিক একজন মায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে শিশুর দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে এবং প্রসবের প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়। এ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন প্রসূতি ও মাতৃস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. ফাহমিদা মাহবুবা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন স্বাস্থ্য সংবাদ।
স্বাস্থ্য সংবাদ: তৃতীয় ত্রৈমাসিক বলতে কোন সময়কে বোঝায় এবং এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ডা. ফাহমিদা মাহবুবা: গর্ভাবস্থার ২৮ সপ্তাহ থেকে ৪০ সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কে তৃতীয় ত্রৈমাসিক বলা হয়। এই সময়ে শিশুর ওজন দ্রুত বাড়ে, মস্তিষ্ক ও ফুসফুসের বিকাশ সম্পন্ন হয় এবং জন্মের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে। একই সঙ্গে মায়ের শরীরেও নানা পরিবর্তন আসে। তাই এই সময়ে বিশেষ যত্ন ও নিয়মিত চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ খুবই জরুরি।
স্বাস্থ্য সংবাদ: এ সময়ে একজন গর্ভবতী মায়ের খাদ্যাভ্যাস কেমন হওয়া উচিত?
ডা. ফাহমিদা মাহবুবা: তৃতীয় ত্রৈমাসিকে সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর হাড় ও মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য ক্যালসিয়াম, আয়রন ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার বেশি খেতে হবে। দুধ, দই, ছোট মাছ, ডিম, মাংস, ডাল, শাকসবজি ও মৌসুমি ফল নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে। পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে আঁশযুক্ত খাবার এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।
স্বাস্থ্য সংবাদ: শিশুর নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
ডা. ফাহমিদা মাহবুবা: এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর নড়াচড়া তার সুস্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে শিশুর নড়াচড়া খেয়াল করতে হবে। সাধারণত দুই ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ১০ বার নড়াচড়া অনুভূত হওয়া স্বাভাবিক। যদি নড়াচড়া হঠাৎ কমে যায় বা দীর্ঘ সময় কোনো নড়াচড়া অনুভূত না হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
স্বাস্থ্য সংবাদ: শেষের দিকে গর্ভবতী মায়েরা সাধারণত কী ধরনের শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হন?
ডা. ফাহমিদা মাহবুবা: পিঠ ও কোমর ব্যথা, পা ফোলা, বুক জ্বালাপোড়া এবং ঘুমের সমস্যা খুবই সাধারণ। এসব সমস্যা কমাতে ভারী কাজ এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া, সঠিক ভঙ্গিতে বসা এবং বাম কাত হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে বা পা ঝুলিয়ে বসে থাকা উচিত নয়।
স্বাস্থ্য সংবাদ: নিয়মিত অ্যান্টিনেটাল চেক-আপ কেন জরুরি?
ডা. ফাহমিদা মাহবুবা: অনেক জটিলতা শুরুতে কোনো লক্ষণ ছাড়াই দেখা দিতে পারে। তাই ২৮ থেকে ৩৬ সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতি দুই সপ্তাহে একবার এবং ৩৬ সপ্তাহের পর প্রতি সপ্তাহে একবার চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চেক-আপ করা উচিত। এ সময়ে রক্তচাপ, ওজন, রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা এবং প্রস্রাবে অ্যালবুমিন পরীক্ষা করা হয়। এর মাধ্যমে প্রি-এক্লাম্পসিয়া বা গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপের মতো ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব।
স্বাস্থ্য সংবাদ: প্রসবের আগে কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত?
ডা. ফাহমিদা মাহবুবা: প্রসবের স্থান আগে থেকেই নির্ধারণ করা উচিত। হাসপাতালের যোগাযোগ নম্বর, জরুরি পরিবহনের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অর্থ প্রস্তুত রাখতে হবে। রক্তের প্রয়োজন হতে পারে, তাই আগে থেকেই সম্ভাব্য রক্তদাতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ভালো। পাশাপাশি মা ও নবজাতকের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, মেডিকেল রিপোর্ট ও কাপড়চোপড় একটি ব্যাগে গুছিয়ে রাখা উচিত।
স্বাস্থ্য সংবাদ: কোন লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে?
ডা. ফাহমিদা মাহবুবা: যোনিপথে রক্তক্ষরণ, পানি ভেঙে যাওয়া, তীব্র মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা, খিঁচুনি, তীব্র পেটব্যথা, শিশুর নড়াচড়া কমে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রসববেদনা শুরু হলে এক মুহূর্তও দেরি করা যাবে না। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
স্বাস্থ্য সংবাদ: হবু মায়েদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
ডা. ফাহমিদা মাহবুবা: গর্ভাবস্থার শেষ সময়টুকু ধৈর্য, সচেতনতা এবং সঠিক পরিচর্যার সময়। পুষ্টিকর খাদ্য, নিয়মিত চিকিৎসা পরামর্শ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং পরিবারের মানসিক সমর্থন একজন মায়ের সুস্থ প্রসব নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো সমস্যা মনে হলে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
স্বাস্থ্য সংবাদ: আপনাকে ধন্যবাদ।
ডা. ফাহমিদা মাহবুবা: আপনাকেও ধন্যবাদ। মাতৃস্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।