স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
স্বাস্থ্য সংবাদ: বর্তমানে ফ্যাটি লিভার রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এর প্রধান কারণ কী?
ডা. বাদল: ফ্যাটি লিভার এখন নীরব মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। আগে এটি মূলত স্থূল মানুষের মধ্যে দেখা গেলেও এখন স্বাভাবিক ওজনের অনেকেরও এই সমস্যা হচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া, দীর্ঘ সময় বসে থাকা, নিয়মিত ব্যায়াম না করা, ডায়াবেটিস এবং অতিরিক্ত ওজন—এসবই ফ্যাটি লিভারের বড় কারণ। অনেকেই কোনো লক্ষণ অনুভব করেন না, তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য সংবাদ: ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে রোগীরা প্রথমে কী করবেন?
ডা. বাদল: ভয় পাওয়ার কিছু নেই, আবার অবহেলাও করা যাবে না। প্রথমেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে লিভারের চর্বি অনেকটাই কমানো সম্ভব। জীবনযাপনে পরিবর্তনই এখানে সবচেয়ে বড় চিকিৎসা।
স্বাস্থ্য সংবাদ: খাদ্যতালিকায় কী ধরনের পরিবর্তন আনা প্রয়োজন?
ডা. বাদল: আমি সাধারণত মেডিটেরিয়ান ধরনের খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করতে বলি। প্রতিদিন পর্যাপ্ত সবুজ শাকসবজি, মৌসুমি ফল, ওটস, লাল চালের ভাত বা লাল আটার রুটি খাওয়া ভালো। এসব খাবারে আঁশ বেশি থাকে, যা লিভারের জন্য উপকারী। পাশাপাশি মাছ, ডাল ও বাদাম নিয়মিত খাওয়া উচিত। বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড লিভারের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। রান্নায় পরিমিত পরিমাণে অলিভ অয়েল বা জলপাই তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।
স্বাস্থ্য সংবাদ: কোন খাবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর?
ডা. বাদল: অতিরিক্ত চিনি ফ্যাটি লিভারের অন্যতম বড় শত্রু। তাই কোমল পানীয়, মিষ্টি, কেক, পেস্ট্রি, প্রক্রিয়াজাত ফলের জুস এবং অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। একই সঙ্গে সাদা ভাত, ময়দার তৈরি খাবার, ফাস্টফুড, ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার কমাতে হবে। গরু ও খাসির মাংসের মতো রেড মিটও সীমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো। আর অ্যালকোহল গ্রহণ করলে তা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।
স্বাস্থ্য সংবাদ: ব্যায়াম কতটা জরুরি?
ডা. বাদল: অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা বা অন্য কোনো মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম করলে লিভারে জমে থাকা চর্বি কমতে শুরু করে। ব্যায়াম শুধু লিভারের জন্য নয়, হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস ও স্থূলতা নিয়ন্ত্রণেও সমানভাবে কার্যকর।
স্বাস্থ্য সংবাদ: ওজন কমালে কি সত্যিই ফ্যাটি লিভার ভালো হয়?
ডা. বাদল: অবশ্যই। গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরের মোট ওজনের মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ ধীরে ধীরে কমাতে পারলে লিভারের চর্বি ও প্রদাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবে খুব দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। ক্র্যাশ ডায়েট অনেক সময় লিভারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
স্বাস্থ্য সংবাদ: অনেকেই বিভিন্ন হারবাল ওষুধ বা ডিটক্স পানীয় খেয়ে ফ্যাটি লিভার কমানোর চেষ্টা করেন। এ বিষয়ে আপনার মত কী?
ডা. বাদল: বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়—এমন কোনো হারবাল ওষুধ বা ডিটক্স পানীয় নিজের ইচ্ছায় খাওয়া উচিত নয়। এগুলোর কিছু কিছু উল্টো লিভারের ক্ষতি করতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা ঠিক নয়।
স্বাস্থ্য সংবাদ: ফ্যাটি লিভার কি পুরোপুরি ভালো হওয়া সম্ভব?
ডা. বাদল: প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে এবং রোগী নিয়ম মেনে চললে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে আনা, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তাই সময়মতো রোগ শনাক্ত করা এবং জীবনযাপনে স্থায়ী পরিবর্তন আনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য সংবাদ: পাঠকদের জন্য আপনার শেষ পরামর্শ কী?
ডা. বাদল: সুস্থ লিভার মানেই সুস্থ শরীর। তাই অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকে দূরে থাকুন, প্রতিদিন নিয়মিত হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখুন। মনে রাখবেন, ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন।