স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২১ জুলাই ২০২৬, ১০:৩১ পি এম

খাওয়ার পর মৌরি খাওয়ার অভ্যাস কি সত্যিই উপকারী?

ছবি: সংগৃহীত

খাবারের পর এক চিমটি মৌরি খাওয়ার অভ্যাস আমাদের দেশে বহুদিনের। বাড়িতে অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁয় খাবারের শেষে মুখশুদ্ধি হিসেবে মৌরি পরিবেশনের প্রচলন রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, মৌরি খেলে হজম ভালো হয়, গ্যাস কমে এবং মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়। কিন্তু এই ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কতটা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌরি (Fennel Seeds) একটি সুগন্ধি মসলা, যাতে রয়েছে প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ যৌগ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং খাদ্যআঁশ। এসব উপাদান হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে কিছুটা সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে ভারী খাবারের পর যাদের পেটে অস্বস্তি, গ্যাস বা ফাঁপাভাব অনুভূত হয়, তাদের ক্ষেত্রে অল্প পরিমাণ মৌরি চিবিয়ে খেলে কিছুটা আরাম মিলতে পারে। তবে এই উপকারিতা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।

পুষ্টিবিদরা জানান, মৌরিতে থাকা প্রাকৃতিক তেল ও সুগন্ধি উপাদান লালারস নিঃসরণ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে, যা হজম প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। তবে এটি কোনো ওষুধ নয় এবং হজমের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার চিকিৎসা হিসেবে মৌরির ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

মৌরির আরেকটি পরিচিত উপকারিতা হলো মুখের দুর্গন্ধ কমাতে সহায়তা করা। খাবারের পর মৌরি চিবিয়ে খেলে মুখে একটি সতেজ অনুভূতি আসে এবং সাময়িকভাবে দুর্গন্ধ কমতে পারে। এ কারণেই বিশ্বের অনেক দেশেই খাবারের শেষে মুখশুদ্ধি হিসেবে মৌরি পরিবেশন করা হয়।

চিকিৎসকদের মতে, পরিমিত পরিমাণে মৌরি খাওয়া সাধারণত নিরাপদ। তবে যাদের মৌরিতে অ্যালার্জি রয়েছে বা বিশেষ কোনো শারীরিক সমস্যা আছে, তাদের সতর্ক থাকা উচিত। একই সঙ্গে যারা নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন, তাদেরও প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, সুস্থ থাকতে শুধু মৌরির ওপর নির্ভর করলে চলবে না। সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সুস্থ থাকার মূল ভিত্তি। মৌরি এসব অভ্যাসের একটি ছোট অংশ হতে পারে, কিন্তু এটি কোনো রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবারের পর অল্প পরিমাণ মৌরি খাওয়ার অভ্যাস হজমে কিছুটা সহায়ক হতে পারে এবং মুখে সতেজ অনুভূতি এনে দিতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে হজমের সমস্যা, গ্যাস, পেটব্যথা বা অন্য কোনো উপসর্গ থাকলে ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর পদক্ষেপ।