স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

ডেস্ক প্রতিবেদক
  ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:২৯ পি এম

গোলমরিচ, কালোজিরা ও মেথি পাতা দিয়ে ভেষজ বড়ি: গ্যাস্ট্রিক ও হজম সমস্যায় উপকারের দাবি

ছবি: সংগৃহীত

দেশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের ভেষজ ও প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের একটি প্রচলিত সংস্কৃতি রয়েছে। বিশেষ করে গ্যাস্ট্রিক, বদহজম, অরুচি এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সাধারণ সমস্যার ক্ষেত্রে অনেকেই ঘরোয়া উপায়ে তৈরি ভেষজ উপাদানের ওপর নির্ভর করেন। সম্প্রতি গোলমরিচ, কালোজিরা ও মেথি পাতা দিয়ে তৈরি একটি ভেষজ বড়ি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ দেখা গেছে।

প্রচলিত এই পদ্ধতিতে সমপরিমাণ গোলমরিচ, কালোজিরা ও তাজা মেথি পাতা একসঙ্গে ভালোভাবে বেটে মিশ্রণ তৈরি করা হয়। এরপর মিশ্রণটি থেকে গুনে গুনে পাঁচটি ছোট বড়ি বানিয়ে রোদে শুকিয়ে নেওয়া হয়। শুকিয়ে যাওয়ার পর প্রতিদিন সকালে খালি পেটে একটি করে বড়ি সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয়। এই পদ্ধতির সমর্থকদের দাবি, নিয়মিত সেবনে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমতে পারে, বদহজম দূর হতে পারে এবং মলত্যাগ স্বাভাবিক ও সহজ হতে পারে।

ভেষজ চিকিৎসা বিষয়ে আগ্রহীদের মতে, কালোজিরায় রয়েছে বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান যা হজম প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে গোলমরিচ খাদ্য হজমে সহায়ক হিসেবে পরিচিত এবং মেথি পাতায় রয়েছে আঁশ ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান, যা অন্ত্রের কার্যক্রমকে সক্রিয় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। এসব উপাদান একত্রে ব্যবহারের ফলে হজমজনিত কিছু সমস্যায় উপকার পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা অনেকেই উল্লেখ করেন।

তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ভেষজ উপাদান বা ঘরোয়া চিকিৎসাকে রোগ নিরাময়ের নিশ্চিত উপায় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। গ্যাস্ট্রিক, আলসার, দীর্ঘমেয়াদি বদহজম বা অন্যান্য পরিপাকতন্ত্রের জটিল সমস্যার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ একই উপসর্গের পেছনে ভিন্ন ভিন্ন রোগের কারণ থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সুষম খাদ্য গ্রহণের পাশাপাশি ভেষজ উপাদান ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে। তবে কোনো ধরনের ভেষজ বড়ি নিয়মিত সেবনের আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, প্রাকৃতিক উপাদানভিত্তিক ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক হলেও এগুলোর কার্যকারিতা সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ফলে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেষজ উপাদান ব্যবহারের পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের নির্দেশনাও অনুসরণ করা উচিত।