স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১৯ জুন ২০২৬, ১১:৩৮ পি এম

সর্দি-কাশি, জ্বরের প্রাকৃতিক ওষুধ শ্বেতদ্রোণ!

ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার পাশাপাশি ভেষজ উদ্ভিদের প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে সর্দি-কাশি, জ্বর ও বিভিন্ন সাধারণ রোগের ক্ষেত্রে বহু প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসা ঔষধি গাছগুলোর মধ্যে শ্বেতদ্রোণ অন্যতম। গ্রামবাংলার মাঠ-ঘাট, রাস্তার ধারে এবং পতিত জমিতে সহজেই জন্মানো এই উদ্ভিদকে অনেকেই প্রকৃতির উপহার হিসেবে অভিহিত করেন।

ভেষজ বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্বেতদ্রোণ (Leucas aspera) একটি বহুগুণসম্পন্ন ঔষধি উদ্ভিদ। সাদা ফুলের কারণে এটি ‘শ্বেতদ্রোণ’ নামে পরিচিত। আয়ুর্বেদ ও লোকজ চিকিৎসায় দীর্ঘদিন ধরে এর পাতা, ফুল ও মূল বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, শ্বেতদ্রোণের পাতার রস সর্দি-কাশি উপশমে কার্যকর বলে লোকজ চিকিৎসায় প্রচলিত রয়েছে। অনেক এলাকায় পাতার রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। এটি গলা ব্যথা কমাতে এবং কফ নিরসনে সহায়ক বলে মনে করা হয়। জ্বরের সময় শরীরের দুর্বলতা ও অস্বস্তি কমাতেও শ্বেতদ্রোণের ব্যবহার রয়েছে।

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে শ্বেতদ্রোণকে ‘জ্বরের গাছ’ হিসেবেও পরিচিতি রয়েছে। স্থানীয় ভেষজ চিকিৎসকরা জানান, জ্বর হলে শ্বেতদ্রোণের পাতা সেদ্ধ করে তৈরি করা পানীয় অনেকেই গ্রহণ করেন। এটি শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়তা করে বলে ধারণা করা হয়।

শুধু সর্দি-কাশি বা জ্বর নয়, মাথাব্যথা, ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা, পোকামাকড়ের কামড় এবং ছোটখাটো ক্ষত সারাতেও শ্বেতদ্রোণের ব্যবহার প্রচলিত রয়েছে। এর পাতায় থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা জানান, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো এই উদ্ভিদ সহজে চাষ করা যায় এবং এর জন্য বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। ফলে ভেষজ চিকিৎসার কাঁচামাল হিসেবে এর সম্ভাবনা যথেষ্ট।

তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, শ্বেতদ্রোণ একটি ভেষজ উদ্ভিদ হলেও এটি আধুনিক চিকিৎসার বিকল্প নয়। গুরুতর অসুস্থতা বা দীর্ঘস্থায়ী জ্বরের ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ভেষজ চিকিৎসা গ্রহণের ক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুসরণ করা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে বর্তমানে প্রাকৃতিক ও নিরাপদ চিকিৎসা পদ্ধতির চাহিদা বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে অবহেলিত এই ঔষধি উদ্ভিদ নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। গবেষকরা মনে করছেন, শ্বেতদ্রোণের ঔষধি গুণাগুণ নিয়ে আরও গবেষণা হলে ভবিষ্যতে এটি প্রাকৃতিক স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সর্দি-কাশি ও জ্বরের মতো সাধারণ সমস্যায় দীর্ঘদিনের লোকজ আস্থার প্রতীক শ্বেতদ্রোণ তাই আজও গ্রামবাংলার মানুষের কাছে একটি পরিচিত ও মূল্যবান ঔষধি উদ্ভিদ।