স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:০৮ পি এম

বর্ষায় শিশুদের ডেঙ্গু-ডায়রিয়ার ঝুঁকি, সতর্ক থাকার পরামর্শ

ছবি: সংগৃহীত

টানা বর্ষণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মৌসুমি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শিশুদের ওপর। এ সময় ডেঙ্গু, ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ এবং ত্বকের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই বর্ষাকালে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার সময়ে বৃষ্টির পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার বংশবিস্তার ঘটে, যা ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে খাবার ও পানীয় সহজেই দূষিত হয়। ফলে শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের প্রকোপও বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া আর্দ্র আবহাওয়ায় ভাইরাসজনিত সর্দি-কাশি, জ্বর এবং ত্বকের সংক্রমণও তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা হলো মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। এজন্য বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, এসির ট্রে, পুরোনো টায়ার, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা যেকোনো স্থানে পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। শিশুকে দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। ঘুমের সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করা উচিত এবং প্রয়োজনে শিশুবান্ধব মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করা যেতে পারে।

চিকিৎসকরা জানান, বর্ষাকালে শিশুর জ্বরকে কখনোই সাধারণ জ্বর ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ডেঙ্গুর লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen) বা অ্যাসপিরিন (Aspirin) সেবন করানো বিপজ্জনক হতে পারে, কারণ এসব ওষুধ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

অন্যদিকে, বর্ষায় ডায়রিয়ার প্রকোপও বেড়ে যায়। এ অবস্থায় শিশুর শরীরে পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর বয়স অনুযায়ী খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে। বুকের দুধ পান করা শিশুদের বুকের দুধ বন্ধ করা যাবে না এবং বড় শিশুদেরও স্বাভাবিক খাবার চালিয়ে যেতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জিঙ্ক সেবন করলে ডায়রিয়ার স্থায়িত্ব ও তীব্রতা কমতে পারে। একই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানি পান, টাটকা খাবার গ্রহণ এবং খোলা বা বাসি খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এ সময় সর্দি-কাশি ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণও বেড়ে যায়। বৃষ্টিতে ভিজে গেলে শিশুর ভেজা কাপড় দ্রুত পরিবর্তন করে শুকনো কাপড় পরিয়ে দিতে হবে। ভেজা জুতা বা মোজা দীর্ঘ সময় পরে থাকা উচিত নয়। জ্বর বা সর্দি-কাশি হলেই নিজের সিদ্ধান্তে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, অধিকাংশ সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাওয়ার আগে, টয়লেট ব্যবহারের পর এবং বাইরে থেকে এসে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস শিশুদের গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি নিরাপদ পানি পান ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

তারা সতর্ক করে বলেন, জ্বরের সঙ্গে অতিরিক্ত দুর্বলতা, বারবার বমি, তীব্র পেটব্যথা, রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ঘুম ঘুম ভাব, খিঁচুনি অথবা ডায়রিয়ার সঙ্গে প্রস্রাব কমে যাওয়া ও অতিরিক্ত নিস্তেজতা দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। এসব লক্ষণ জটিল রোগের ইঙ্গিত হতে পারে এবং দ্রুত চিকিৎসা না পেলে শিশুর অবস্থা গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহিনুল ইসলাম বলেন, "বর্ষাকালে শিশুদের অসুস্থতার ঝুঁকি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। তাই প্রতিটি অভিভাবককে সচেতন থাকতে হবে। বাড়িতে কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না, শিশুকে সবসময় মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং জ্বর বা ডায়রিয়াকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। ডেঙ্গুর সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আইবুপ্রোফেন বা অ্যাসপিরিন দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে পাতলা পায়খানা হলে দ্রুত খাবার স্যালাইন, বুকের দুধ ও স্বাভাবিক খাবার চালিয়ে যেতে হবে এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জিঙ্ক দিতে হবে। শিশুর জ্বরের সঙ্গে অতিরিক্ত দুর্বলতা, বারবার বমি, শ্বাসকষ্ট, রক্তপাত বা প্রস্রাব কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে, বর্ষাকালে শিশুর সবচেয়ে বড় সুরক্ষা হলো বাবা-মায়ের সচেতনতা। সামান্য সতর্কতাই শিশুকে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও অন্যান্য সংক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখতে পারে।"