স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ পি এম

প্রাথমিক লক্ষণ চিনলেই সহজ হবে নিরাপদ মাতৃত্ব

ছবি: সংগৃহীত

গর্ভধারণের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা একজন নারীর মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকে সহজ ও নিরাপদ করতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, গর্ভধারণের পর শরীরে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়, যা দ্রুত শনাক্ত করা গেলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ গ্রহণ সম্ভব হয়।

চিকিৎসকদের মতে, নিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ুতে স্থাপনের এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই গর্ভধারণের কিছু প্রাথমিক লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে। তবে সব নারীর ক্ষেত্রে এসব লক্ষণ একইভাবে দেখা নাও যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া গর্ভধারণের সবচেয়ে সাধারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। নিয়মিত মাসিক হওয়া কোনো নারীর হঠাৎ মাসিক বন্ধ হয়ে গেলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বিবেচনা করা উচিত।

এছাড়া বমি বমি ভাব বা বমি গর্ভধারণের আরেকটি পরিচিত লক্ষণ। অনেকের ক্ষেত্রে এটি সকালে বেশি দেখা যায়, যা ‘মর্নিং সিকনেস’ নামে পরিচিত। তবে দিনের যেকোনো সময়ও এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

গর্ভাবস্থার শুরুতে স্তনে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। স্তন ভারী বা স্পর্শকাতর হয়ে উঠতে পারে এবং নিপল ও এর চারপাশের অংশ স্বাভাবিকের তুলনায় গাঢ় রঙ ধারণ করতে পারে। এসব পরিবর্তন মূলত শরীরে হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ঘটে।

চিকিৎসকরা আরও জানান, অনেক নারী গর্ভধারণের প্রথম দিকে অস্বাভাবিক ক্লান্তি অনুভব করেন। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরও অবসাদ বা দুর্বলতা কাটতে চায় না। শরীরে প্রজেস্টেরনসহ বিভিন্ন হরমোনের পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের ক্লান্তি দেখা দেয়।

এ ছাড়া ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, খাবারের স্বাদ ও গন্ধে পরিবর্তন, মেজাজের ওঠানামা এবং হালকা পেটব্যথা বা ক্র্যাম্পও গর্ভধারণের প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে থাকতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, গর্ভধারণের সম্ভাব্য লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার পাশাপাশি একজন প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা মা ও অনাগত শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তাদের মতে, গর্ভধারণের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতনতা বাড়লে মাতৃমৃত্যু ও গর্ভকালীন জটিলতা কমানোর পাশাপাশি নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে।