স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১৬ জুন ২০২৬, ০৪:৩০ পি এম

গর্ভবতী মায়েদের জন্য পাঁচ স্বাস্থ্যকর টিপস

ছবি: সংগৃহীত

মাতৃত্ব একজন নারীর জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও আবেগঘন অধ্যায়। গর্ভধারণের মুহূর্ত থেকে একজন মা শুধু নিজের নয়, অনাগত সন্তানের সুস্থতা নিয়েও ভাবতে শুরু করেন। এই সময়ে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মায়ের খাবারই শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশের প্রধান ভিত্তি।

পুষ্টিবিদ রেণুকা বাচভের মতে, গর্ভাবস্থায় সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস অনুসরণ করলে মা ও শিশু উভয়ের সুস্থতা নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি গর্ভবতী মায়েদের জন্য পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ তুলে ধরেছেন।

১. প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন পুষ্টিকর খাবার

গর্ভাবস্থায় খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য থাকা জরুরি। শস্যজাত খাবার, মাছ, মুরগি, ডিম, শাকসবজি, ফলমূল এবং দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার নিয়মিত খাওয়া উচিত। এসব খাবারে থাকা ভিটামিন, খনিজ ও খাদ্যআঁশ মায়ের শরীরকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করে।

২. ফলিক অ্যাসিড ও আয়রনের গুরুত্ব ভুলবেন না

গর্ভাবস্থায় ফলিক অ্যাসিড শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের সঠিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে আয়রন রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করে এবং মায়ের ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে। সবুজ শাকসবজি, ডাল ও বিভিন্ন ফল ফলিক অ্যাসিডের ভালো উৎস। আর লাল মাংস, কলিজা ও অন্যান্য আয়রনসমৃদ্ধ খাবার শরীরের আয়রনের চাহিদা পূরণে সহায়ক।

৩. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

গর্ভবতী মায়েদের শরীরে পানির চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি থাকে। পর্যাপ্ত পানি পান শরীরকে সতেজ রাখে এবং শিশুকে ঘিরে থাকা অ্যামনিয়োটিক তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। তাই সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। অতিরিক্ত চা-কফি বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে ভেষজ চা বা স্বাস্থ্যকর পানীয় বেছে নেওয়া ভালো।

৪. স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস বেছে নিন

অনেক সময় গর্ভাবস্থায় বারবার ক্ষুধা লাগে। এ সময় চিপস বা জাঙ্ক ফুডের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়া উচিত। বাদাম, টক দই, তাজা ফল কিংবা পুষ্টিকর হালকা খাবার শক্তি জোগায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকিও কমায়।

৫. খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকুন

গর্ভাবস্থায় খাবারের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধা সিদ্ধ বা কাঁচা মাংস, অপাস্তুরিত দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার এবং কাঁচা সামুদ্রিক খাদ্য এড়িয়ে চলা উচিত। ফল ও শাকসবজি খাওয়ার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকে।