স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নরমাল ডেলিভারি বা স্বাভাবিক প্রসবে সাফল্যের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। হাসপাতালটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে জন্ম নিয়েছে ১৭টি শিশু। মা ও নবজাতক সবাই সুস্থ থাকায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা শেষে তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ দিনে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে জন্ম নিয়েছে ৮৭টি নবজাতক। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই এ সংখ্যা পৌঁছেছে ৮২৮-এ। ২০২৫ সালে হাসপাতালটিতে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে জন্ম নেয় ৩ হাজার ৯৩১ শিশু। আর গত পাঁচ বছরে প্রায় ১৯ হাজার নবজাতক এই হাসপাতালের মাধ্যমে পৃথিবীর আলো দেখেছে।
হাসপাতাল পরিদর্শনে দেখা যায়, স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়া মায়েরা নবজাতকদের নিয়ে আনন্দের সঙ্গে বাড়ি ফিরছেন। তারা হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিকতা, দক্ষতা এবং নিরাপদ মাতৃত্বসেবা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
রোসাংগিরি ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, “স্ত্রীকে নিয়ে রাতে হাসপাতালে এসেছিলাম। শুরুতে বেশ উদ্বিগ্ন ছিলাম। কিন্তু চিকিৎসকদের সহযোগিতায় স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে আমাদের একটি কন্যাসন্তান জন্ম নিয়েছে। মা ও সন্তান দুজনেই সুস্থ। হাসপাতালের সেবায় আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট।”
প্রসূতি বিভাগের নার্সিং সুপারভাইজার কৃষ্ণা প্রভাত দেবী জানান, হাসপাতালে নিয়মিত প্রসূতি সেবা, অ্যান্টেনাটাল কেয়ার (এএনসি), পোস্টনাটাল কেয়ার (পিএনসি) এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সিজারিয়ান সেবাও প্রদান করা হয়। তিনি বলেন, “একদিনে ২১টি শিশুর জন্ম হওয়ার রেকর্ডও রয়েছে। বিদ্যুৎ সংকটের সময় মোমবাতির আলোয়ও আমরা প্রসূতি মায়েদের সেবা দিয়েছি। নবজাতকদের কোনো জটিলতা দেখা দিলে শিশু বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। নিরাপদ মাতৃত্বসেবা নিশ্চিত করতে আমাদের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করছেন।”
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু স্বাস্থ্য কনসালট্যান্ট ডা. মো. জয়নাল আবেদীন মুহুরী বলেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় জন্ম নেওয়া ১৭টি নবজাতককেই আমি পর্যবেক্ষণ করেছি। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, সব শিশুই সুস্থ রয়েছে এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরেছে। সরকারি হাসপাতালের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়লে ভবিষ্যতে স্বাভাবিক প্রসবের হার আরও বৃদ্ধি পাবে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল আলম বলেন, “ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ধরে নরমাল ডেলিভারির ক্ষেত্রে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে আসছে। প্রসূতি সেবায় বিশেষ অবদান রাখায় হাসপাতালটি জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কারও অর্জন করেছে। আমরা সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কাজ করে যাচ্ছি। গত ১০ দিনেই ৮৭টি স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হওয়া আমাদের সেবার প্রতি মানুষের আস্থারই প্রতিফলন।”
নিরাপদ মাতৃত্বসেবা, দক্ষ জনবল এবং সেবার মানোন্নয়নের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আজ স্বাভাবিক প্রসবের ক্ষেত্রে দেশের অন্যতম সফল সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।