স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৭ পি এম

ডেঙ্গুতে আতঙ্ক নয়, বিপৎসংকেতগুলো চিনে নিন

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করানো জরুরি।

এ রোগে জ্বর কমে যাওয়ার পরও রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে। তাই শুধু প্লাটিলেটের সংখ্যা নয়, রোগীর রক্তচাপ, প্রস্রাবের পরিমাণ, হেমাটোক্রিটসহ (রক্তে লোহিত কণিকার অনুপাত) সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ, বিশ্রাম, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং বিপৎসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

তবে সব রোগীর চিকিৎসা এক রকম নয়। রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা ও অন্যান্য রোগের উপস্থিতি বিবেচনায় চিকিৎসা নির্ধারণ করতে হয়।

জ্বরের প্রথম সাত দিনের মধ্যে ডেঙ্গু শনাক্তে এনএস১ অ্যান্টিজেন (NS1) পরীক্ষা কার্যকর হতে পারে। এ সময় চিকিৎসকের পরামর্শে আইজিএম (IgM) পরীক্ষাও করা হতে পারে। সাত দিনের পর আইজিএম পরীক্ষা সাধারণত বেশি উপযোগী।

অন্যদিকে, শুধু আইজিজি (IgG) পরীক্ষার মাধ্যমে তীব্র ডেঙ্গু সংক্রমণ নিশ্চিত করা যায় না। তাই বিভ্রান্তি এড়াতে তিনটি পরীক্ষা একসঙ্গে না করে জ্বরের স্থায়িত্ব ও রোগীর উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করানো উচিত। 

ডেঙ্গুতে পানিশূন্যতা এড়াতে রোগীকে পর্যাপ্ত তরল পান করাতে হবে। পানি, খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, স্যুপ ও অন্যান্য তরল খাবার দেওয়া যেতে পারে।

তবে রোগীর জন্য তরলের পরিমাণ নির্ধারণে বয়স, ওজন, শারীরিক অবস্থা এবং হৃদ্‌যন্ত্র বা কিডনির সমস্যা আছে কি না, তা বিবেচনা করা জরুরি। সবার জন্য দিনে নির্দিষ্ট পরিমাণ স্যালাইন খাওয়ার নিয়ম নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত তরল গ্রহণও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। 

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাকসহ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এমন ব্যথানাশক ওষুধ এড়িয়ে চলতে হবে। জ্বর কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যায়।

ডেঙ্গু রোগীর বিপৎসংকেতগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, রক্তবমি, কালো পায়খানা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, অস্থিরতা, শ্বাসকষ্ট এবং শরীর ঠান্ডা হয়ে আসা।

এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার সময় ও পরবর্তী পর্যায়ে রোগীর প্রতি বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। 

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে প্লাটিলেট কমে যেতে পারে। তবে শুধু প্লাটিলেটের সংখ্যা কমেছে বলে প্লাটিলেট দিতে হবে, এমন নয়। রোগীর রক্তক্ষরণ, রক্তচাপ, হেমাটোক্রিট ও সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় চিকিৎসক এ সিদ্ধান্ত নেন।

রক্তক্ষরণ না থাকলে শুধু প্লাটিলেটের সংখ্যা কম হওয়ার কারণে প্রতিরোধমূলকভাবে প্লাটিলেট দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় না। 

পেঁপে পাতার রস বা মিষ্টি কুমড়া খেলে ডেঙ্গুতে প্লাটিলেট বাড়ে, এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত নয়।

তাই এসব উপাদানকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। স্বাভাবিক পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত তরল, বিশ্রাম এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলাই গুরুত্বপূর্ণ।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ, পানির পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং মশার কামড় এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

ডেঙ্গু রোগীকেও মশারির মধ্যে রাখা উচিত, যাতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানো মশার মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে।

ডেঙ্গুতে আতঙ্কিত না হয়ে সময়মতো পরীক্ষা, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং বিপৎসংকেত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি কমানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায়।