স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

শারমিন শাওন, নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৯ এএম

হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে জীবনযাপনে আনুন যেসব পরিবর্তন

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হৃদ্‌রোগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিশ্বে প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ মানুষ হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালির রোগে মারা গেছেন, যা ওই বছরের মোট মৃত্যুর প্রায় ৩২ শতাংশ। তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

সিঙ্গাপুরের হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. পিনাকিন পারেখের মতে, হৃদ্‌রোগের চিকিৎসার লক্ষ্য শুধু হার্ট অ্যাটাকের সময় রোগীর জীবন বাঁচানো নয়, বরং হার্ট অ্যাটাক যেন না ঘটে, সেই ব্যবস্থা করা। এ জন্য রোগের ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের ‘লাইফস এসেনশিয়াল ৮’ নির্দেশিকায় হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে স্বাস্থ্যকর খাবার, শারীরিক সক্রিয়তা, ধূমপান ও নিকোটিন এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর ওজন এবং রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

খাবারে আনুন পরিবর্তন

হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ফল, ডাল, বাদাম ও পূর্ণশস্যজাতীয় খাবার রাখা প্রয়োজন। মাছ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের উৎসও খাদ্যতালিকায় রাখা যায়। অন্যদিকে অতিরিক্ত লবণ, চিনি, অস্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং চিনিযুক্ত পানীয় কম খাওয়া উচিত।

অতিরিক্ত লবণ রক্তচাপ বাড়াতে পারে। তাই রান্নায় লবণের পরিমাণ কমানোর পাশাপাশি চিপস, চানাচুর ও অন্যান্য বেশি লবণযুক্ত খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি।

নিয়মিত শরীরচর্চা করুন

হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম, যেমন দ্রুত হাঁটা, অথবা ৭৫ মিনিট তীব্র ব্যায়াম করার পরামর্শ দেয় আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন। পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম করা উপকারী।

একবারে দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করা কঠিন হলে অল্প সময় হাঁটা দিয়ে শুরু করা যায়। দীর্ঘ সময় একটানা বসে না থেকে মাঝেমধ্যে উঠে হাঁটাচলা করাও ভালো অভ্যাস।

ধূমপান ছাড়ুন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন

ধূমপান হৃদ্‌রোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ। তাই ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন। অতিরিক্ত ওজনের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্পর্ক রয়েছে। স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা

প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। পাশাপাশি নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করা জরুরি। কারণ, উচ্চ রক্তচাপের মতো কিছু সমস্যা স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই দীর্ঘদিন থাকতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। প্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়মিত গ্রহণ এবং চিকিৎসকের ফলোআপও গুরুত্বপূর্ণ।

হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে খাবার, শরীরচর্চা, ঘুম ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার দিকে একসঙ্গে নজর দেওয়া প্রয়োজন। প্রতিদিনের অভ্যাসে ছোট ছোট পরিবর্তন এনে এবং ঝুঁকির কারণগুলো নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃদ্‌স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।