স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

শারমিন শাওন, নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৪ পি এম

এয়ারপড কি তারযুক্ত হেডফোনের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর?

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে গান শোনা, ফোনে কথা বলা কিংবা অনলাইন মিটিংয়ের জন্য ওয়্যারলেস এয়ারপড ও ইয়ারবাডের ব্যবহার বাড়ছে। তারের ঝামেলা না থাকায় অনেকেই দীর্ঘসময় কানে এয়ারপড পরে থাকেন।

তবে ব্লুটুথের রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি সংকেত এবং দীর্ঘসময় হেডফোন ব্যবহারের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ওয়্যারলেস হওয়ার কারণে এয়ারপডকে তারযুক্ত হেডফোনের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর বলার মতো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং কানে কত জোরে এবং কতক্ষণ শব্দ পৌঁছাচ্ছে, তা শ্রবণস্বাস্থ্যের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘসময় উচ্চ শব্দে গান শোনা শ্রবণশক্তির স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এ ক্ষেত্রে এয়ারপড, ব্লুটুথ ইয়ারবাড কিংবা তারযুক্ত হেডফোন—কোনোটিই ঝুঁকিমুক্ত নয়।

শব্দের তীব্রতা বেশি হলে কানের ভেতরের শব্দ সংবেদনশীল কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ধরনের ক্ষতি হলে শ্রবণশক্তি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সবসময় সম্ভব হয় না।
ব্লুটুথ সংকেত নিয়ে উদ্বেগ কতটা যৌক্তিক?

ওয়্যারলেস এয়ারপড ব্লুটুথ প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বল্পমাত্রার রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি সংকেত ব্যবহার করে। অন্যদিকে, তারযুক্ত হেডফোনে সরাসরি তারের মাধ্যমে অডিও সংকেত পৌঁছায়। এ কারণে তারযুক্ত হেডফোনে ব্লুটুথের রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি নির্গমনের প্রয়োজন হয় না।

কানের ক্ষতি কীভাবে হয়?
কানের ভেতরের ককলিয়া বা শামুকাকৃতির অংশে থাকা সূক্ষ্ম সংবেদনশীল কোষ শব্দের কম্পনকে স্নায়ুর সংকেতে রূপান্তর করে। দীর্ঘসময় উচ্চ শব্দে গান শুনলে এসব কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এর ফলে কানে শোঁ শোঁ বা ভোঁ ভোঁ শব্দ, কথাবার্তা বুঝতে অসুবিধা এবং ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, অতিরিক্ত শব্দের কারণে শ্রবণশক্তির ক্ষতি স্থায়ীও হতে পারে। 

উদাহরণ হিসেবে, কেউ বাসে যাতায়াতের সময় বাইরের শব্দ ঢাকতে এয়ারপডের ভলিউম বাড়িয়ে দিলেন। আবার কেউ অফিসে অনলাইন মিটিংয়ের জন্য কয়েক ঘণ্টা একটানা ইয়ারবাড ব্যবহার করছেন। উভয় ক্ষেত্রেই শব্দের মাত্রা বেশি হলে শ্রবণক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই শুধু ডিভাইসের ধরন নয়, ব্যবহারের অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।

নিরাপদে হেডফোন ব্যবহারের উপায়
শ্রবণস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ব্যক্তিগত অডিও ডিভাইসের ভলিউম সর্বোচ্চ মাত্রার ৬০ শতাংশের নিচে রাখার পরামর্শ দেয়। তবে ডিভাইসভেদে শব্দের প্রকৃত তীব্রতা আলাদা হতে পারে। তাই সম্ভব হলে শব্দের মাত্রা ডেসিবেলে পর্যবেক্ষণ করাও উপকারী। 

এ ছাড়া দীর্ঘসময় একটানা গান না শুনে মাঝেমধ্যে বিরতি নেওয়া, কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে ভলিউম বাড়ানো এড়িয়ে চলা এবং নিরাপদ শ্রবণসুবিধাযুক্ত ডিভাইস ব্যবহার করা ভালো। নয়েজ ক্যানসেলিং সুবিধা থাকলে বাইরের শব্দ কমানোর জন্য ভলিউম বাড়ানোর প্রয়োজনও কমতে পারে।

এয়ারপড ব্যবহারের পর কানে বারবার ভোঁ ভোঁ শব্দ হলে, স্বাভাবিক কথাবার্তা বুঝতে অসুবিধা হলে কিংবা শ্রবণশক্তি কমে গেছে বলে মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। হঠাৎ শ্রবণশক্তি কমে গেলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, এয়ারপড ও তারযুক্ত হেডফোনের মধ্যে কোনটি বেশি ক্ষতিকর, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কী মাত্রায় এবং কতক্ষণ শব্দ শোনা হচ্ছে। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে উভয় ধরনের ডিভাইস দিয়েই শ্রবণস্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।