স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
ঢাকা: ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো প্রতিরোধ। এ জন্য সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাড়া-মহল্লা ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার সকালে রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বছরের এ সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। প্রতিবছর ডেঙ্গুতে বহু মানুষ আক্রান্ত হন এবং অনেকের মৃত্যু হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো প্রতিরোধ। আর প্রতিরোধ নিশ্চিত করতে হলে নিজেদের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই করতে হলে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। এ কাজে তিনি শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চান। দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ নিজেদের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিবেশ রক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ঢাকা একটি বিশাল শহর। এখানে দুই থেকে আড়াই কোটির বেশি মানুষের বসবাস। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করলেও তাঁদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে শুধু সিটি করপোরেশন কিংবা প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক নাগরিককে নিজের দায়িত্ব বুঝে নিতে হবে।
শিক্ষার্থীদের নাগরিক দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্কাউট, গার্ল গাইড কিংবা রেড ক্রিসেন্টের সদস্য হওয়া-না-হওয়া নির্বিশেষে সবাই দেশের নাগরিক এবং তারাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই নিজের বাসা, স্কুল, পাড়া ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব তাদেরও নিতে হবে।
যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কেউ নির্ধারিত স্থানের বাইরে ময়লা ফেললে তাকে সচেতন করতে হবে। নাগরিকেরা সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলে ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী জানান, নগরীর বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলার জন্য ডাস্টবিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অনেক জায়গা থেকে এসব ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাচ্ছে। একইভাবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে লাগানো গাছের চারাও চুরি হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নাগরিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য শিক্ষার্থীদের নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের জন্মদিনে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি। গাছ বাসায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিংবা গ্রামের বাড়িতে লাগানো যেতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রাজধানীতে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ও সবুজের ঘাটতি প্রসঙ্গে নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণা করে তারেক রহমান বলেন, একসময় ঢাকায় অনেক বেশি গাছপালা ও খোলা জায়গা ছিল। বর্তমানে সেসব জায়গার অনেকটিতে বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। গাছপালা কমে যাওয়ায় শহরে গরমের অনুভূতিও বেড়েছে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও শহরের তাপমাত্রা কমিয়ে আনতে বেশি করে গাছ লাগানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, গাছের সংখ্যা বাড়লে মানুষ আরও স্বস্তিতে শ্বাস নিতে পারবে। সবাই মিলে গাছ লাগালে শহরের তাপমাত্রাও কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও সবুজায়নের মতো কাজে শুধু সরকারের উদ্যোগের ওপর নির্ভর করলে হবে না। প্রত্যেকে নিজের বাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব পালন করলে সম্মিলিতভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।