স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১০ পি এম

ওপেন-হার্ট সার্জারির পর লিভার ক্যান্সার আক্রান্ত ফারিস-প্রয়োজন ৪০ লাখ টাকা!

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: যে বয়সে মায়ের কোলে হাসি-খেলায় বেড়ে ওঠার কথা, যে বয়সে বাবার আঙুল ধরে টলমল পায়ে হাঁটার স্বপ্ন দেখার কথা, সেই বয়সেই কঠিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়ছে এক বছরের শিশু মুয়ায ইবনে মুহাম্মাদ (ফারিস)।

জন্মের পর থেকেই জীবনের নানা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া শিশুটির ওপর এবার নেমে এসেছে আরও বড় বিপর্যয়। ওপেন-হার্ট সার্জারির পর তার লিভারে ক্যান্সার ধরা পড়েছে।

দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে প্রয়োজন প্রায় ৪০ লাখ টাকা। কিন্তু এই বিপুল অর্থের সংস্থান করা পরিবারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই একমাত্র সন্তানকে বাঁচাতে সমাজের হৃদয়বান মানুষের কাছে সাহায্যের আকুতি জানিয়েছেন তার বাবা।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর দেশের বাইরে ফারিসের ওপেন-হার্ট সার্জারি করা হয়। অস্ত্রোপচারের ধকল সামলে ওঠার আগেই তার লিভারে ক্যান্সার শনাক্ত হয়।

লিভারে দুটি টিউমার রয়েছে, যার একটি বেশ বড়। শিশুটির চিকিৎসায় আর দেরি করতে চান না স্বজনেরা। তাঁদের আশঙ্কা, সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করতে না পারলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

ফারিসের বাবার কাছে সন্তান শুধু পরিবারের একজন সদস্য নয়, তাঁর পৃথিবীজুড়ে বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় অবলম্বন। ছোট্ট শিশুটির হাসি, মায়াভরা মুখ আর নিষ্পাপ চাহনির মধ্যেই তিনি খুঁজে পান জীবনের সব আনন্দ।

অথচ সেই সন্তানকেই আজ সুস্থ করে তোলার জন্য তাঁকে মানুষের দ্বারে দ্বারে সহযোগিতা চাইতে হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন আবেদনে ফারিসের বাবা লিখেছেন, একদিন তাঁর ছোট্ট সন্তান দুই হাত দিয়ে বাবার হাত বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরেছিল। সেই মুহূর্তের স্মৃতি আজও তাঁকে আবেগাপ্লুত করে। সন্তানের সেই ছোট্ট হাতের স্পর্শ যেন বাবার কাছে বেঁচে থাকার আকুতি-যেন সে বলতে চায়, ‘বাবা, আমাকে ছেড়ে যেও না।’

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ফারিসের পরবর্তী ছয় থেকে সাত মাস চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। এ জন্য আনুমানিক ৪০ লাখ টাকা দরকার। এত বিপুল অর্থ একা জোগাড় করা তাঁর বাবার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

সন্তানের জীবন রক্ষার এই কঠিন লড়াইয়ে তাই সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং মানবিক হৃদয়ের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফারিসের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা পাঠানোর পাশাপাশি যাকাতের অর্থ দিয়েও সহযোগিতা করা যাবে। কেউ অর্থ দিয়ে সহায়তা করতে না পারলেও আবেদনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে অন্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

একটি শেয়ার হয়তো এমন কারও কাছে আবেদনটি পৌঁছে দিতে পারে, যিনি শিশুটির চিকিৎসায় এগিয়ে আসতে পারবেন।

সহযোগিতা পাঠানোর ঠিকানা:

বিকাশ/নগদ: ০১৮৩-৫৮৬৯২৫২

রকেট: ০১৯৫-০৮৩৪০০৫

রেমিট্যান্স: ০১৯১৮-৮৫৪৫৩৬ (মোছা. আসমা)

একটি শিশুর জীবনে এক বছর মানে অসংখ্য স্বপ্নের শুরু। সেই স্বপ্নগুলো যেন অর্থের অভাবে থেমে না যায়, সে জন্য ফারিসের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তাঁর স্বজনেরা।

তাঁদের প্রত্যাশা, সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হবে এবং ছোট্ট ফারিস আবার সুস্থ জীবনের পথে ফিরবে।

মানবিকতার কাছে এই আবেদন-সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়ান ছোট্ট ফারিসের। আর্থিক সহায়তা সম্ভব না হলে অন্তত আবেদনটি ছড়িয়ে দিন।

সবাই মিলে তার সুস্থতার জন্য দোয়া করুন। মহান আল্লাহ যেন শিশুটিকে পূর্ণ সুস্থতা দান করেন এবং তার বাবা-মায়ের মুখে আবারও হাসি ফিরিয়ে দেন। আমিন।