স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

ডেস্ক প্রতিবেদক
  ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৯ পি এম

বাংলাদেশসহ ২০ দেশের বিশেষায়িত ওষুধে শুল্কছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: পেটেন্ট করা ওষুধ আমদানিতে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের মধ্যেই বাংলাদেশসহ ২০টি দেশ ও অঞ্চল থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট বিশেষায়িত ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদানে শুল্কছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ফলে বিরল রোগ, বন্ধ্যত্ব, সেল ও জিন থেরাপিসহ নির্দিষ্ট চিকিৎসায় ব্যবহৃত যোগ্য ওষুধ ও উপাদান শূন্য শতাংশ শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করতে পারবে।

মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের ২৩ সেপ্টেম্বরের নোটিশ অনুযায়ী, শূন্য শতাংশ শুল্ক সুবিধার আওতায় রয়েছে বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ, নিউক্লিয়ার মেডিসিন, প্লাজমা-ভিত্তিক থেরাপি, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসার ওষুধ, সেল ও জিন থেরাপি, অ্যান্টিবডি-ড্রাগ কনজুগেটস (এডিসি), রাসায়নিক, জৈবিক, রেডিওলজিক্যাল ও পারমাণবিক হুমকির মোকাবিলায় ব্যবহৃত চিকিৎসা উপকরণ এবং প্রাণীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ। এসব পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত সংশ্লিষ্ট উপাদানও এ সুবিধার আওতায় রয়েছে।

বাংলাদেশ ছাড়াও তালিকায় রয়েছে আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গুয়াতেমালা, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, নর্থ মেসিডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড ও লিচেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং ভিয়েতনাম।

এর আগে গত ২ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে পেটেন্ট করা ওষুধ, বায়োলজিকস ও সংশ্লিষ্ট উপাদান আমদানিতে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। যুক্তরাষ্ট্রে এসব পণ্যের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানো ওই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য বলে ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়।

মার্কিন নীতিতে পেটেন্ট ও জেনেরিক ওষুধের ক্ষেত্রে পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট পেটেন্ট করা ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদানের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হলেও বর্তমানে জেনেরিক ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদান এ শুল্কের আওতামুক্ত রয়েছে।

মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের নোটিশ অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কিছু কোম্পানির ক্ষেত্রে নতুন শুল্ক ৩১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। অন্য কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে তা কার্যকর হওয়ার কথা।

এ ছাড়া ‘জেনেরিক ফার্মাসিউটিক্যাল আর্টিকেলস’ ও ‘ফার্মাসিউটিক্যাল আর্টিকেলস’-এর সংজ্ঞায় কারিগরি সংশোধন আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে পেটেন্টবিহীন প্রাণীর স্বাস্থ্যসেবা পণ্য, প্রস্তুত ওষুধ, সক্রিয় ওষুধ উপাদান এবং সক্রিয় উপাদান তৈরির প্রধান কাঁচামালের সংজ্ঞা আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং অন্যান্য অ-বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের জন্য আমদানি করা নির্দিষ্ট ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য ও উপাদানের ক্ষেত্রেও শূন্য শতাংশ শুল্কের বিধান রাখা হয়েছে।

মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দেশ ও অঞ্চলগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান বা ভবিষ্যতে কার্যকর হতে যাওয়া বাণিজ্য ও নিরাপত্তা কাঠামোসংক্রান্ত চুক্তির বিষয়টি শুল্কছাড়ের যোগ্যতার অন্যতম ভিত্তি। ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্টের ২৩২ ধারার আওতায় ওষুধ ও ওষুধের উপাদান আমদানির নীতিতে এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে।