স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
ঢাকা: তীব্র গরমে শুধু মানুষের স্বাস্থ্যই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ওষুধের গুণগত মান ও কার্যকারিতাও। নির্ধারিত তাপমাত্রার বাইরে দীর্ঘ সময় ওষুধ সংরক্ষণ করা হলে কিছু ওষুধের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
ফলে রোগীর চিকিৎসায় ঝুঁকি তৈরির পাশাপাশি নষ্ট হতে পারে বিপুল পরিমাণ ওষুধ, বাড়তে পারে রোগী, ফার্মেসি ও সরবরাহকারীদের আর্থিক ক্ষতি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরমের সময় ফার্মেসি, ওষুধের গুদাম, পরিবহনব্যবস্থা এবং বাসাবাড়িতে ওষুধ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ অতিরিক্ত তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও সরাসরি সূর্যের আলো কিছু ওষুধের স্থায়িত্ব ও গুণগত বৈশিষ্ট্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অনেক ওষুধের প্যাকেটে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া থাকে। কোনো কোনো ওষুধ ঠান্ডা পরিবেশে রাখতে হয়, আবার কিছু ওষুধ নির্দিষ্ট তাপমাত্রার নিচে রাখার নির্দেশ থাকে।
তাই ওষুধের প্যাকেটের গায়ে থাকা সংরক্ষণ নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। নির্ধারিত শর্তের বাইরে ওষুধ দীর্ঘ সময় থাকলে সেটি ব্যবহারের উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
ওষুধের মান নষ্ট হলে এর সরাসরি অর্থনৈতিক প্রভাবও রয়েছে। উৎপাদন বা আমদানির পর একটি ওষুধ পরিবহন, গুদামজাতকরণ ও খুচরা বিক্রির বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে রোগীর হাতে পৌঁছায়।
এসব ধাপে সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা না গেলে বড় ধরনের মজুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তখন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নষ্ট ওষুধের পরিবর্তে নতুন ওষুধ সরবরাহ, পণ্য প্রত্যাহার ও ব্যবস্থাপনার জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে।
এ ছাড়া কোনো রোগী সংরক্ষণজনিত কারণে মানহীন বা কার্যকারিতা কমে যাওয়া ওষুধ ব্যবহার করলে চিকিৎসার প্রত্যাশিত ফল নাও পেতে পারেন। এতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, নতুন করে ওষুধ কেনা কিংবা অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। ফলে রোগীর চিকিৎসা ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে।
তবে ওষুধ গরমে নষ্ট হয়েছে কি না, তা শুধু প্যাকেট দেখে সবসময় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। কিছু ক্ষেত্রে ওষুধের রং, গন্ধ, আকৃতি বা প্যাকেটে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাইরে থেকে স্বাভাবিক দেখালেও অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে ওষুধের গুণগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হতে পারে। তাই সন্দেহজনক অবস্থায় চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ফার্মেসি ও ওষুধের গুদামে তাপমাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা, সরাসরি সূর্যের আলো থেকে ওষুধ দূরে রাখা, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে তাপমাত্রা-সংবেদনশীল ওষুধের ক্ষেত্রে সংরক্ষণ ও পরিবহনের প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত তাপমাত্রা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বাসাবাড়িতেও ওষুধ রাখার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। রান্নাঘর, জানালার পাশে, গাড়ির ভেতর কিংবা এমন কোনো স্থানে ওষুধ রাখা উচিত নয় যেখানে অতিরিক্ত তাপ বা সরাসরি রোদ পড়ে। ওষুধের প্যাকেটে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত স্থানে তা সংরক্ষণ করা উচিত।
এদিকে গরমের কারণে কোনো ওষুধের মান নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে যাচাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ফার্মেসি, কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়া কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানকে বয়কটের আহ্বান জানানো থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের। অভিযোগের ক্ষেত্রে যথাযথ তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো উচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বাড়ার প্রবণতার মধ্যে ওষুধের নিরাপদ সংরক্ষণ এখন শুধু স্বাস্থ্যগত বিষয় নয়, অর্থনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সংরক্ষণব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে একদিকে রোগীর চিকিৎসার নিরাপত্তা বাড়বে, অন্যদিকে ওষুধ নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতিও কমানো সম্ভব হবে।