স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৮ পি এম

ক্যানসারসহ ৭ জটিল রোগে এক লাখ টাকা দেবে সরকার, আবেদন করবেন যেভাবে

ফাইল ছবি

ঢাকা: ক্যানসার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিসসহ সাতটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত দরিদ্র ও অসচ্ছল রোগীদের এককালীন এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার।

এ লক্ষ্যে ‘ক্যানসার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, প্যারালাইসিস, হৃদ্‌রোগ, লিউকেমিয়া এবং থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬ (সংশোধিত)’ চূড়ান্ত করা হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এ সহায়তা দেওয়া হবে। গত ১৮ অক্টোবর অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে সংশোধিত নীতিমালাটি প্রকাশ করা হয়।

নীতিমালা অনুযায়ী, সহায়তার আওতায় থাকা সাতটি রোগ হলো, ক্যানসার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, প্যারালাইসিস, জটিল হৃদ্‌রোগ, লিউকেমিয়া ও থ্যালাসেমিয়া।

এসব রোগে আক্রান্ত অসচ্ছল রোগীদের ব্যয়বহুল চিকিৎসার আর্থিক চাপ কমানো এবং তাঁদের পরিবারকে অর্থনৈতিক সংকট থেকে সুরক্ষা দেওয়াই এ কর্মসূচির লক্ষ্য।

কারা পাবেন সহায়তা: আবেদনকারীকে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে। রোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দরিদ্র ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন এমন রোগী, জীবনঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি, শিশু, নারী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

একজন রোগী একই অর্থবছরে একবার এবং সারা জীবনে সর্বোচ্চ তিনবার এ সহায়তা পেতে পারবেন।

তবে ভুল বা মিথ্যা তথ্য দেওয়া, জাল কাগজপত্র জমা দেওয়া কিংবা একই বিষয়ে সরকারের অন্য কোনো খাত থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে আবেদন বাতিল হতে পারে।

আবেদনে যেসব কাগজপত্র লাগবে: আবেদনের জন্য রোগী এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে। ১৮ বছরের কম বয়সী রোগীর ক্ষেত্রে ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন সনদের ফটোকপি প্রয়োজন হবে।

এ ছাড়া রোগী ও অভিভাবকের পাসপোর্ট আকারের ছবি, মনোনীত নমিনির জাতীয় পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।

সহায়তার অর্থ গ্রহণের জন্য রোগী বা অভিভাবকের নামে তফসিলি ব্যাংকের হিসাব থাকতে হবে। ব্যাংক হিসাবের তথ্য এবং চেকবইয়ের কভার পাতার ফটোকপিও জমা দিতে হবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সিল ও স্বাক্ষরসহ হালনাগাদ ব্যবস্থাপত্র এবং প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন হবে।

রোগভেদে যেসব পরীক্ষার রিপোর্ট প্রয়োজন: রোগ শনাক্তকরণের প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রত্যয়নসহ নির্দিষ্ট পরীক্ষার রিপোর্টের সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হবে।

ক্যানসারের ক্ষেত্রে বায়োপসি বা হিস্টোপ্যাথলজি রিপোর্ট, কিডনি রোগের ক্ষেত্রে ইউরিয়া-ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষার রিপোর্ট ও ডায়ালাইসিস সনদ, লিভার সিরোসিসের ক্ষেত্রে আল্ট্রাসনোগ্রাম বা ফাইব্রোস্ক্যানের রিপোর্ট প্রয়োজন হবে।

প্যারালাইসিসের ক্ষেত্রে এমআরআই বা সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট, হৃদ্‌রোগের ক্ষেত্রে এনজিওগ্রাম বা ইকোকার্ডিওগ্রামের রিপোর্ট এবং থ্যালাসেমিয়া বা লিউকেমিয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দিতে হবে। নীতিমালায় নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি সংযুক্ত করতে হবে।

আবেদন করবেন যেভাবে: প্রথমে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদন সম্পন্ন হলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি এবং আবেদনের মূল প্রিন্ট কপি সংশ্লিষ্ট উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়, শহর সমাজসেবা কার্যালয় অথবা সরকারি হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।

আবেদনের নিয়ম, নির্ধারিত ফরম এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট জেলা, উপজেলা বা হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

তবে আবেদন করলেই আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত হবে না। নীতিমালার শর্ত পূরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই এবং কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ভিত্তিতে সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত হবে।