স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
ঢাকা: পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং কোর্সে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি স্টাইপেন্ড চালু অথবা পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
আর্থিক অনটনের কারণে যাতে মেধাবী নার্সিং শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা থেকে ঝরে না পড়েন, সে জন্য এ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং ভর্তি প্রক্রিয়ায় কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তের ফলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং সদ্য নিবন্ধিত অনেক নার্স মেধার ভিত্তিতে সরকারি নার্সিং কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। গত ৩ অক্টোবর এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
আগের বছরগুলোতে সরকারি হাসপাতালে কর্মরত সিনিয়র স্টাফ নার্সদের জন্য ৯৫ শতাংশ এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নার্সদের জন্য ৫ শতাংশ কোটা বরাদ্দ ছিল। চলতি বছর এ কোটা ব্যবস্থা তুলে নেওয়ায় ভর্তির ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে ভর্তির সুযোগ পেলেও শিক্ষার্থীদের সামনে জীবিকা নির্বাহ ও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। এসএসসি ও এইচএসসি পাসের পর তিন বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কোর্স সম্পন্ন করে ছয় মাসের ইন্টার্নশিপ ও প্রয়োজনীয় নিবন্ধন শেষে অনেকেই কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। তাঁদের অনেকে পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী হওয়ায় চাকরি ছেড়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা, পোস্ট বেসিক বিএসসি কোর্সে নিয়মিত উপস্থিতি বাধ্যতামূলক হলে এবং পাশাপাশি চাকরির সুযোগ না থাকলে নিজেদের ও পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করা দুরূহ হবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে আয়ের বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এতে আর্থিক সংকটে মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা অসমাপ্ত রেখে দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষা ও স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে প্রচলিত স্টাইপেন্ড বা আর্থিক সহায়তার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, নার্সিং পেশাজীবীদের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হলে তাঁরা অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তা কমিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারবেন।
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, সরকার পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন নার্সিংয়ে অধ্যয়নরত যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য স্টাইপেন্ড চালু করবে। বিকল্প হিসেবে পড়াশোনার মান ও নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রেখে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নার্সদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা গেলে তাঁদের পেশাগত দক্ষতা বাড়বে এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তাই শুধু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কোনো নার্স যাতে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্য কার্যকর নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।