স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১:২২ পি এম

শিশুদের সন্ধ্যায় হাত-পায়ে ব্যথা কি গ্রোয়িং পেইন? কারণ, লক্ষণ ও করণীয় জানালেন ডা. মেহেদী হাসান’

ছবি: সংগৃহীত

শিশুদের হাত-পায়ে ব্যথা, বিশেষ করে সন্ধ্যা বা রাতের দিকে ব্যথার অভিযোগ অনেক অভিভাবকের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে চিকিৎসকদের মতে, সব ধরনের ব্যথাই গুরুতর রোগের লক্ষণ নয়। অনেক ক্ষেত্রেই এটি গ্রোয়িং পেইন (Growing Pain) বা শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি-সংক্রান্ত ব্যথা হতে পারে। তবে ব্যথার প্রকৃতি বুঝে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

শিশুস্বাস্থ্য বিষয়ক চিকিৎসক ডা. মেহেদী হাসান বলেন, সাধারণত ২ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের মধ্যে গ্রোয়িং পেইন বেশি দেখা যায়। এই ব্যথা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সন্ধ্যা বা রাতে অনুভূত হয় এবং সকালে শিশুরা আবার স্বাভাবিকভাবে খেলাধুলা ও হাঁটাচলা করতে পারে। ব্যথা সাধারণত দুই পায়ের পেশি, হাঁটুর নিচে, কাফ মাসল বা কখনও হাতেও অনুভূত হতে পারে।

তিনি বলেন, Growing Bone Pain কোনো সংক্রামক রোগ নয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি হাড়ের জটিল রোগের লক্ষণও নয়। তবে শিশুর ব্যথার সঙ্গে যদি জ্বর, হাঁটতে সমস্যা, জয়েন্ট ফুলে যাওয়া, একটি নির্দিষ্ট স্থানে দীর্ঘদিন ব্যথা, ওজন কমে যাওয়া বা দুর্বলতা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

ডা. মেহেদী হাসানের ভাষ্য, অনেক শিশুর ক্ষেত্রে ক্যালসিয়ামভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থাকলে হাত-পায়ের ব্যথা আরও বেশি অনুভূত হতে পারে। তাই চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে শিশুর বয়স, ওজন ও শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করে ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট বা অন্যান্য ওষুধের পরামর্শ দিতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী Calbo JR (250 mg)-এর মতো ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দেওয়া হতে পারে। তবে এটি সব শিশুর জন্য একইভাবে প্রযোজ্য নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা পরিচিতজনের পরামর্শে কোনো শিশুকে নিজ উদ্যোগে ওষুধ খাওয়ানো উচিত নয়। প্রতিটি শিশুর শারীরিক অবস্থা ভিন্ন হওয়ায় ওষুধের প্রয়োজন ও মাত্রা নির্ধারণ করবেন চিকিৎসক।

বিশেষজ্ঞরা জানান, শিশুদের পায়ের ব্যথা বা রাতে পায়ে ব্যথা কমাতে আক্রান্ত স্থানে হালকা মালিশ, গরম সেঁক, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং পুষ্টিকর খাবার উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি দুধ, ডিম, ছোট মাছ ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার শিশুর খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।

ডা. মেহেদী হাসান বলেন, অনেক অভিভাবক শিশুর গ্রোয়িং পেইনকে অবহেলা করেন, আবার কেউ কেউ অযথা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সঠিক মূল্যায়ন ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। ব্যথা বারবার হলে বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ থাকলে অবশ্যই নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শিশু স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা ও পুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে অধিকাংশ শিশু সুস্থভাবে বেড়ে ওঠে এবং গ্রোয়িং পেইনের মতো সমস্যা ধীরে ধীরে কমে যায়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিভাবকদের উচিত শিশুদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে শোনা, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ ব্যবহার না করা। সঠিক সময়ে চিকিৎসা গ্রহণই শিশুদের সুস্থ বৃদ্ধি ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সবচেয়ে কার্যকর উপায়।