স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৩ পি এম

প্রথম এনজিওপ্লাস্টিতেই কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের ঐতিহাসিক সাফল্য!

ছবি: সংগৃহীত

হঠাৎ বুকের তীব্র ব্যথা। দায়িত্ব পালন করতে করতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের এক পুলিশ সদস্য। মুহূর্তেই উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে সহকর্মী ও পরিবারের মধ্যে। তবে সেই উৎকণ্ঠার মধ্যেই আসে আশার খবর, রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের ক্যাথ ল্যাবে প্রথমবারের মতো সফলভাবে সম্পন্ন হয় তার হৃদপিণ্ডের পারকিউটেনিয়াস করোনারি ইন্টারভেনশন (পিসিআই) বা করোনারি এনজিওপ্লাস্টি।

শুধু একজন রোগীর জীবনরক্ষার সফলতা নয়, এই ঘটনাই ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের ইতিহাসে যুক্ত করল এক নতুন অধ্যায়। প্রথমবারের মতো নিজস্ব ক্যাথ ল্যাবে এনজিওপ্লাস্টি সম্পন্ন করে হাসপাতালটি হৃদরোগ চিকিৎসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছে।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে জটিল এই চিকিৎসা সম্পন্ন করেন। বর্তমানে ওই পুলিশ সদস্য হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি সুস্থতার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।

এই সাফল্যের মাধ্যমে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে হৃদরোগ চিকিৎসার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। এখন থেকে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য এবং তাদের পরিবার জরুরি হৃদরোগের চিকিৎসা ও আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক কার্ডিয়াক ইন্টারভেনশন সেবা আরও দ্রুত, নিরাপদ ও সহজে নিজেদের হাসপাতালেই গ্রহণ করতে পারবেন। সংকটময় মুহূর্তে সময় নষ্ট না করে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ অনেক জীবন বাঁচাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির সংযোজন, দক্ষ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী গড়ে তোলা এবং বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। হাসপাতালটির এই অর্জন শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং জীবন রক্ষার সক্ষমতা বাড়ানোর পথে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।