স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১৬ জুন ২০২৬, ০২:৪৭ পি এম

আসুন একজন অসহায় মায়ের জীবন বাঁচাতে মানবতার হাত বাড়িয়ে দিই

ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের বৃদ্ধা অজুফার জীবনে যেন একের পর এক নেমে এসেছে দুর্ভাগ্যের কালো ছায়া। জীবনের শেষ বয়সে যখন একজন মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় নিরাপদ আশ্রয়, পরিবারের সান্নিধ্য এবং সন্তানের স্নেহ, তখন অজুফা হারিয়েছেন সবকিছুই। আজ তিনি হাসপাতালের বারান্দায় শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন, আর অপেক্ষা করছেন কোনো সহৃদয় মানুষের সাহায্যের।

কয়েকদিন আগেও তার জীবনের সম্বল ছিল একটি ছোট্ট ঝুপড়ি ঘর। সেই ঘরটিই ছিল তার শেষ আশ্রয়স্থল। কিন্তু হঠাৎ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে ছাই হয়ে যায় সেই ঘর। আগুনের লেলিহান শিখা শুধু তার বসতঘরই কেড়ে নেয়নি, দগ্ধ করেছে তার শরীরও। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সুবিদখালী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কিন্তু হাসপাতালের দৃশ্য আরও হৃদয়বিদারক। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে তিনি কোনো বেড পাননি। হাসপাতালের বারান্দাতেই কষ্টে-যন্ত্রণায় দিন কাটছে তার। পোড়া ক্ষতের যন্ত্রণা, অসহ্য ব্যথা আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিটি মুহূর্ত পার করছেন তিনি। চিকিৎসকরা বলছেন, তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। দ্রুত তাকে ঢাকার বিশেষায়িত হাসপাতালে, বিশেষ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা গেলে জীবন বাঁচানোর সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।

কিন্তু এখানেই সবচেয়ে বড় বাধা-দারিদ্র্য।

অজুফার পরিবারে সেই সামর্থ্য নেই। আরও বেদনাদায়ক বিষয় হলো, তার দুই ছেলে থাকা সত্ত্বেও তারা মায়ের খোঁজখবর নিচ্ছেন না বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বড় ছেলে আব্দুর রব এবং ছোট ছেলে জামাল, দুজনই মায়ের এই সংকটময় সময়ে তার পাশে নেই। যে মা একদিন সন্তানদের মানুষ করতে নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়েছিলেন, আজ সেই মায়ের শয্যার পাশে সন্তানের উপস্থিতি নেই।

হাসপাতালের বারান্দায় শুয়ে থাকা অজুফার দিকে তাকালে মনে হয়, তিনি যেন শুধু চিকিৎসার জন্য নয়, মানবতার জন্যও অপেক্ষা করছেন।

সমাজে আমরা প্রায়ই মানবিকতার কথা বলি। বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলি। কিন্তু বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষায় কতটা আমরা সেই দায়িত্ব পালন করতে পারি, সেটিই এখন দেখার বিষয়। অজুফার মতো একজন অসহায় নারী আজ আমাদের সহমর্মিতা নয়, বাস্তব সহযোগিতা চাইছেন।

স্থানীয় সমাজসেবক ও আইনজীবী মাহবুব হোসেন জানিয়েছেন, দ্রুত অজুফাকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি। এজন্য একটি অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজন। বিশেষ করে কোনো প্রবাসী কল্যাণ সমিতি, সামাজিক সংগঠন কিংবা মানবিক ব্যক্তি যদি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে দেন, তাহলে তার জীবন বাঁচানোর একটি সুযোগ তৈরি হতে পারে।

একই সঙ্গে তার চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহের জন্যও আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং মানবিক মানুষদের কাছে আবেদন, আপনার সামান্য সহযোগিতাও একজন মুমূর্ষু মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মনে রাখতে হবে, মানবতা কখনো বড় অঙ্কের অর্থে পরিমাপ করা যায় না। কখনো একটি ফোনকল, একটি সহযোগিতার হাত, একটি অ্যাম্বুলেন্স কিংবা সামান্য আর্থিক সহায়তাই একজন মানুষের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়ে দিতে পারে।

আজ অজুফা হাসপাতালের বারান্দায় শুয়ে আছেন। হয়তো তিনি জানেন না, আগামীকাল সূর্য ওঠার পর তিনি এই পৃথিবীকে আবার দেখতে পারবেন কি না। কিন্তু আমরা চাই, তার গল্পটি যেন আরেকটি নীরব মৃত্যুর গল্প হয়ে না যায়।

আসুন, আমরা সবাই মিলে একজন অসহায় মায়ের পাশে দাঁড়াই। তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠাতে সহায়তা করি। কারণ একজন মানুষের জীবন বাঁচানোর চেয়ে বড় মানবিক কাজ আর কিছু হতে পারে না।

রোগীর নাম: অজুফা
স্বামীর নাম: গঞ্জে আলী
ঠিকানা: সুবিদখালী, মির্জাগঞ্জ, পটুয়াখালী

সহায়তা পাঠানোর মাধ্যম:
মহসীন রেজা
বিকাশ/নগদ: ০১৭৩৬৯১২১১৬

যোগাযোগ:
মাহবুব হোসেন (অ্যাডভোকেট)
মোবাইল: ০১৭২৫৮৯৮৫৬৯