স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
বছরের পর বছর উন্নত চিকিৎসার আশায় হাজারো বাংলাদেশিকে সিঙ্গাপুর, ভারত, থাইল্যান্ড কিংবা অন্যান্য দেশে ছুটতে হয়। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে অনেক পরিবারকে ভিটেমাটি বিক্রি করতে হয়, আবার অনেকেই অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। সেই বাস্তবতায় দেশের স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে ইউএস-বাংলা গ্রুপ। আকাশপথে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি এবার বিশ্বমানের হাসপাতাল গড়ে মানুষের জীবন রক্ষার স্বপ্ন দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।
রোববার (১৯ জুলাই) কক্সবাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রায় এক হাজার বিঘা জমির ওপর একটি আধুনিক ‘হেলথকেয়ার সিটি’ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের নকশা করবেন সিঙ্গাপুরের আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মাণে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই হেলথকেয়ার সিটিতে থাকবে অত্যাধুনিক হাসপাতাল, বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্র, উন্নত রোগ নির্ণয় সুবিধা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। লক্ষ্য শুধু বাংলাদেশের রোগীদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা নয়; বরং নেপাল, ভুটানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রোগীদের জন্যও বাংলাদেশকে একটি চিকিৎসা গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা।
মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, দেশের মানুষ যেন উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে বাধ্য না হন, সেই লক্ষ্য নিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা দেশে নিশ্চিত করা গেলে রোগীদের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি—সবই কমে আসবে।
স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশে বিশ্বমানের বেসরকারি হাসপাতালের সংখ্যা এখনও সীমিত। ফলে জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক রোগী বিদেশে যান এবং এর সঙ্গে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাও বাইরে চলে যায়। ইউএস-বাংলার পরিকল্পিত স্বাস্থ্যসেবা নগরী বাস্তবায়িত হলে সেই চিত্র বদলাতে পারে।
শুধু হাসপাতাল নির্মাণ নয়, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি, দক্ষ চিকিৎসক, আন্তর্জাতিক মানের সেবাব্যবস্থা এবং গবেষণাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে চিকিৎসা খাতের সক্ষমতা আরও বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইউএস-বাংলা গ্রুপের এই বিনিয়োগ নতুন কর্মসংস্থানেরও বড় সুযোগ তৈরি করবে। চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, গবেষক, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা—বিভিন্ন পর্যায়ে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের নতুন সুযোগও তৈরি হবে।
সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ইউএস-বাংলা শুধু একটি এয়ারলাইন্স হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অগ্রযাত্রায় দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখাই তাদের লক্ষ্য।
আকাশে উড্ডয়নের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা ইউএস-বাংলা এবার মানুষের সুস্থ জীবন নিশ্চিত করার নতুন স্বপ্ন নিয়ে এগোচ্ছে। পরিকল্পিত এই হাসপাতাল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, দেশের স্বাস্থ্য খাতেও একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।