স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২২ জুলাই ২০২৬, ১১:২১ পি এম

ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হচ্ছে, ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার

ফাইল ছবি

দেশের প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এবং বিভিন্ন জটিল রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করার লক্ষ্যে সারাদেশে ‘হোম-টু-হোম হেলথ স্ক্রিনিং’ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার ৮০ শতাংশই নারী। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন, স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা তৈরি করবেন এবং বিশেষ করে নারীদের স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যান্সার সম্পর্কে প্রাথমিক পরীক্ষার পদ্ধতি শেখাবেন।

মঙ্গলবার (৭ শ্রাবণ) রাজধানীর গুলশান লেক পার্কে ‘হাইজিন ফর হেলথ বাংলাদেশ’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ ঘোষণা দেন।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের কোনো নাগরিক যেন স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হন। চিকিৎসা শুধু হাসপাতালনির্ভর না রেখে মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে উৎসাহিত হবেন এবং বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ ও ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, কর্মসূচির আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে প্রায় ৮০ হাজারই নারী হবেন। নারী স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের স্তন ক্যান্সার ও জরায়ুমুখের ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন করবেন এবং কীভাবে নিজেই প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করা যায়, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেবেন। এর ফলে অনেক নারী সময়মতো রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি স্বাস্থ্যকর্মীর কাছে একটি বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষার বক্স থাকবে। এই বক্সে রক্তচাপ মাপার যন্ত্র, ওজন পরিমাপের সরঞ্জাম, রক্তে শর্করা (ডায়াবেটিস) পরীক্ষার কিট, লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষার উপকরণসহ প্রয়োজনীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার সরঞ্জাম থাকবে। ফলে সাধারণ মানুষকে হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে না গিয়েও ঘরে বসে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি রোগ এবং ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগ দ্রুত বাড়ছে। এসব রোগের বড় সমস্যা হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীরা প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণ বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ ধরা পড়ার সময় অনেক দেরি হয়ে যায়। নতুন এই কর্মসূচির মাধ্যমে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা গেলে এসব রোগ আগেভাগে শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং চিকিৎসার সাফল্যের হারও বাড়বে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, একটি সুস্থ জাতি গড়তে শুধু চিকিৎসাসেবা বাড়ালেই হবে না, স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতাও বাড়াতে হবে। সুস্থ থাকতে হলে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ খাদ্য, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরিতেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, “কেউ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না—এটাই আমাদের লক্ষ্য। জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করতেই আমরা ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম চালু করছি।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন গুলশান সোসাইটির সভাপতি ওয়াস সাদাত। তিনি পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬’-এর বিজয়ী সামানজার সাঈদ, মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিরেক্টর আজরা মাহমুদসহ বিভিন্ন সামাজিক ও স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রাথমিক স্ক্রিনিংয়ের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় একটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী সহজেই স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসবে এবং ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ দ্রুত শনাক্ত হওয়ায় মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে। সরকারের এই কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।