স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:২২ পি এম

ভুয়া রিপোর্ট ও দালাল চক্রের অভিযোগে রাজধানীর দুই ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত

ভুয়া প্যাথলজি রিপোর্ট প্রদান, দালাল চক্রের মাধ্যমে রোগী সংগ্রহ এবং মানহীন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকার এক্টিভ ডায়াগনস্টিকহেলথ এইড নামের দুটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে পরিচালিত এক অভিযানে প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে ভুয়া প্যাথলজি রিপোর্ট তৈরি, দালাল চক্রের মাধ্যমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে আনা এবং নিম্নমানের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত ও তদারকির পর তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ ছিল। এসব বিষয়ে তাদের একাধিকবার সতর্ক করা হয় এবং ত্রুটি সংশোধনের জন্য সময়ও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও সেবার মান ও কার্যক্রমে কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান দুটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জনগণের নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান আইন ও নীতিমালা লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক মাস আগেও একই ধরনের অভিযোগে প্রতিষ্ঠান দুটিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছিল। সে সময় সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করা হয়, দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং প্রতিষ্ঠান দুটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ত্রুটিগুলো সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দিলে শর্তসাপেক্ষে তাদের পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে পুনরায় পরিদর্শনে একই ধরনের অনিয়ম অব্যাহত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় এবার স্থায়ীভাবে তাদের কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। রোগীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।