স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২২ জুলাই ২০২৬, ১১:০৯ পি এম

একনেকে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার সম্প্রসারণ প্রকল্পের অনুমোদন, জেলা পর্যায়ে বাড়বে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা

ফাইল ছবি

দেশের কিডনি রোগীদের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য, মানসম্মত ও বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ‘মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসমূহে বিদ্যমান কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং জেলা সদর হাসপাতালসমূহে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন (২য় সংশোধন)’ শীর্ষক প্রকল্পটি বুধবার অনুষ্ঠিত একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ সচিবালয়ের ভবন-১-এর ১০ম তলার মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটিরও অনুমোদন দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে কিডনি রোগীদের জন্য আধুনিক ও উন্নত ডায়ালাইসিস সেবা নিশ্চিত করা। প্রকল্পের আওতায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে পরিচালিত কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টারগুলোকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। একই সঙ্গে জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ১০ শযার নতুন কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে, যাতে জেলা পর্যায়ের রোগীরাও নিজ নিজ এলাকায় বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরেই কিডনি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং অন্যান্য জটিল রোগের কারণে প্রতিবছর নতুন করে অসংখ্য মানুষ দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এসব রোগীর বড় একটি অংশকে নিয়মিত ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত সরকারি ডায়ালাইসিস সুবিধা না থাকায় অনেক রোগীকেই ব্যয়বহুল বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন হতে হয়, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে।

এ বাস্তবতায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডায়ালাইসিস সুবিধা সম্প্রসারণকে স্বাস্থ্য খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জেলা পর্যায়ে কিডনি রোগীদের রাজধানী বা বিভাগীয় শহরে ছুটে আসার প্রয়োজন অনেকাংশে কমে যাবে। এতে রোগীদের সময়, যাতায়াত ব্যয় ও ভোগান্তি যেমন কমবে, তেমনি নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণও সহজ হবে।

এছাড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর বিদ্যমান ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ায় রোগীদের অপেক্ষার সময় কমবে এবং অধিকসংখ্যক রোগী একইসঙ্গে সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো ডায়ালাইসিসের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে কিডনি রোগীদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি মৃত্যুঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্রকল্প দেশের স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে জেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় সমতা নিশ্চিত করার সরকারি উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীলতাও কমবে।

একনেকে অনুমোদনের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হলো। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে আধুনিক ডায়ালাইসিস সুবিধা সম্প্রসারিত হবে এবং কিডনি রোগীদের জন্য একটি টেকসই ও সহজলভ্য চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কিডনি রোগের ক্রমবর্ধমান চাপ মোকাবিলায় অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই প্রকল্প দেশের স্বাস্থ্য খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।