স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৯ পি এম

হেপাটাইটিসমুক্ত ভবিষ্যৎ গড়তে সবার অংশগ্রহণ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি

ভাইরাল হেপাটাইটিস প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ, সহজলভ্য চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে হেপাটাইটিসমুক্ত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সরকার, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি সংগঠন, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আগামীকাল (মঙ্গলবার) পালিত হবে বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস ২০২৬। এ উপলক্ষে সোমবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা সুবিধার উন্নয়ন এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘চলুন সহজভাবে বুঝি’। এ প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে হেপাটাইটিস সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা সবার জন্য সহজলভ্য করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, হেপাটাইটিস বিশ্বের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসের কারণে লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হন। অথচ সময়মতো টিকাদান, পরীক্ষা, নিরাপদ স্বাস্থ্যচর্চা এবং যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই হেপাটাইটিস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার প্রতিবন্ধকতা দূর করা এখন সময়ের দাবি।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লিভার রোগের বিশেষায়িত চিকিৎসা, আধুনিক রোগ নির্ণয় সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালসহ বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজনের মাধ্যমে দেশে উন্নত লিভার চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে, যাতে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন কমে।

তিনি আরও জানান, লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এককালীন সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত সরকারি আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।

রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে সরকার ই-হেলথ কার্ড এবং সমন্বিত রোগী তথ্য ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে রোগীর স্বাস্থ্যতথ্য সংরক্ষণ, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, ধারাবাহিক চিকিৎসা এবং সরকারি সহায়তা প্রদান আরও সহজ ও কার্যকর হবে। পাশাপাশি হেপাটাইটিসসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি ফলোআপ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি নাগরিকের জন্য আধুনিক, মানবিক ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা বর্তমান সরকারের নীতিগত অঙ্গীকার। ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’ (প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম)—এই নীতিকে সামনে রেখে জনস্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা, প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের ইতিহাসে স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বাজেট, লিভার চিকিৎসার অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং রোগীকেন্দ্রিক সেবার মাধ্যমে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি সংগঠন, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাণীর শেষে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশ ভাইরাল হেপাটাইটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আরও সফল হবে এবং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও হেপাটাইটিসমুক্ত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।