স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১৬ জুলাই ২০২৬, ০২:০০ এএম

বয়সের বাড়ার সঙ্গে সারকোপেনিয়ার ঝুঁকি বাড়ে কেন?

ছবি: সংগৃহীত

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের কঙ্কালের পেশির ভর, শক্তি ও কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যাওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় সারকোপেনিয়া (Sarcopenia) বলা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সের পর এই প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং ৬০ বছরের পর এর তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, সারকোপেনিয়া ধীরে ধীরে অগ্রসর হওয়ায় অনেকেই শুরুতে বিষয়টি বুঝতে পারেন না। তবে সময়ের সঙ্গে হাত-পায়ের শক্তি কমে যাওয়া, হাঁটার গতি ধীর হয়ে যাওয়া, সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়া এবং দৈনন্দিন কাজ করতে অসুবিধা হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা জানান, এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির হাত ও পায়ের মাংসপেশি ধীরে ধীরে পাতলা বা ঝুলে যেতে পারে। চেয়ার থেকে উঠতে, সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে কিংবা ভারী জিনিস তুলতে কষ্ট হওয়াও সারকোপেনিয়ার সাধারণ উপসর্গ।

বার্ধক্যকে সারকোপেনিয়ার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও আরও কয়েকটি বিষয় এ রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এর মধ্যে রয়েছে নিয়মিত ব্যায়ামের অভাব, দীর্ঘ সময় শয্যাশায়ী থাকা, পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ক্যালোরিযুক্ত খাবার না খাওয়া, বয়সজনিত হরমোনের পরিবর্তন এবং ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি রোগ বা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত রোগের মতো স্বাস্থ্যসমস্যা।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত হাঁটা ও শক্তিবর্ধক ব্যায়াম, পর্যাপ্ত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখলে সারকোপেনিয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের পেশির শক্তি বা চলাফেরার সক্ষমতা দ্রুত কমে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

তাদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে পেশি ক্ষয়কে স্বাভাবিক ভেবে অবহেলা না করে শুরুতেই সচেতন হওয়া জরুরি। সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপন দীর্ঘদিন বজায় রাখা সম্ভব।