স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১০ জুলাই ২০২৬, ১০:০১ পি এম

ডিপ্লোমা ডেন্টাল থেরাপিস্টদের সীমিত প্রাইভেট প্র্যাকটিসের দাবি: জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে তুলে ধরা হলো ১০ দফা যুক্তি

ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রাথমিক দাঁতের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করতে ডিপ্লোমা ডেন্টাল থেরাপিস্টদের (ডিডিটি) জন্য আইন ও নীতিমালার আওতায় সীমিত পরিসরে প্রাইভেট প্র্যাকটিস চালুর দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্ধারিত Scope of Practice অনুসারে সীমিত সেবা প্রদানের সুযোগ দেওয়া হলে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মৌলিক ওরাল হেলথ সেবা নিশ্চিত করা সহজ হবে এবং বিশেষজ্ঞ ডেন্টাল সার্জনদের ওপরও কাজের চাপ কমবে।

ডিডিটিদের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত ১০ দফা যুক্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে এখনও বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রাথমিক দাঁতের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে গ্রাম ও দুর্গম এলাকায় ডেন্টাল সেবার ঘাটতি রয়েছে। এ অবস্থায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডেন্টাল থেরাপিস্টদের সীমিত পরিসরে সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

যুক্তিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডেন্টাল থেরাপিস্টরা আইন দ্বারা নির্ধারিত দায়িত্বের আওতায় রোগীদের সেবা দিয়ে আসছেন। বাংলাদেশেও একই ধরনের নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা চালু করা হলে আন্তর্জাতিক মানের একটি কার্যকর মডেল অনুসরণ করা সম্ভব হবে।

প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ডেন্টাল থেরাপিস্টরা কোনোভাবেই ডেন্টাল সার্জনের বিকল্প নন। তারা কেবল নির্ধারিত সীমার মধ্যে প্রতিরোধমূলক ও প্রাথমিক ডেন্টাল চিকিৎসা প্রদান করবেন। জটিল বা বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে রোগীকে নিবন্ধিত ডেন্টাল সার্জনের কাছে রেফার করা হবে।

এতে আরও বলা হয়, যথাযথ প্রশিক্ষণ, নিবন্ধন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার তত্ত্বাবধানে সীমিত পরিসরের চিকিৎসা নিরাপদভাবে পরিচালনা করা সম্ভব। ফলে রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসার মানও বজায় থাকবে।

১০ দফা যুক্তিতে ওরাল হেলথ শিক্ষা, স্কেলিং, ফ্লোরাইড প্রয়োগ এবং অন্যান্য প্রতিরোধমূলক সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব সেবা নিয়মিত পাওয়া গেলে দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির রোগসহ বিভিন্ন জটিলতা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

তারা আরও বলেন, সহজ ও প্রাথমিক রোগীদের ডেন্টাল থেরাপিস্টরা পরিচালনা করলে ডেন্টাল সার্জনরা জটিল অস্ত্রোপচার ও বিশেষায়িত চিকিৎসায় আরও বেশি সময় দিতে পারবেন। এতে স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক দক্ষতা বাড়বে।

এছাড়া সীমিত পরিসরে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সুযোগ সৃষ্টি হলে প্রশিক্ষিত ডিপ্লোমা ডেন্টাল থেরাপিস্টদের কর্মসংস্থান বাড়বে এবং দেশের ডেন্টাল স্বাস্থ্যখাত আরও শক্তিশালী হবে বলেও মত দেন তারা।

তবে প্রস্তাবে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, সীমিত প্রাইভেট প্র্যাকটিস চালুর ক্ষেত্রে অবশ্যই সরকারের অনুমোদিত আইন, নিবন্ধন ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি এবং নির্ধারিত Scope of Practice কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

স্বাস্থ্যখাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, বিষয়টি বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী, নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং ডেন্টাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে জনস্বার্থ, রোগীর নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান-সবগুলো দিক সমন্বয় করে একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে।