স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
প্রাথমিক ও সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে দেশীয় প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎচালিত অ্যাম্বুলেন্স তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় প্রকল্পটির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
সম্প্রতি (৬ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য ও দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় দ্রুত পৌঁছানোর সুযোগ সৃষ্টি করাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
তিনি জানান, প্রকল্পটির প্রাথমিক পর্যায়ে একটি উপজেলাকে মডেল হিসেবে নির্বাচন করে অ্যাম্বুলেন্স তৈরির কাজ শুরু করা হবে। পরীক্ষামূলকভাবে প্রকল্পটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এর সম্প্রসারণ করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের অ্যাম্বুলেন্সের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশ থেকে অ্যাম্বুলেন্স আমদানির ওপর নির্ভরতাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা যায়, দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বাস্তব চাহিদা বিবেচনায় তিন ধরনের অ্যাম্বুলেন্স তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে থাকবে গ্রাম থেকে উপজেলা পর্যায়ে রোগী পরিবহনের জন্য একটি মডেল, উপজেলা থেকে জেলা পর্যায়ে রোগী স্থানান্তরের জন্য আরেকটি মডেল এবং জেলা থেকে রাজধানী বা বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগী পরিবহনের জন্য উন্নত সুবিধাসম্পন্ন আরেকটি মডেল। এই তিন স্তরের সেবার মাধ্যমে জরুরি রোগী পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সভায় উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা জানান, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এসব অ্যাম্বুলেন্সে আধুনিক চিকিৎসা সহায়ক সরঞ্জাম সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি যানবাহনে অক্সিজেন সাপোর্ট, জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং রোগী পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি দেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, গ্রামীণ সড়কের অবস্থা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে অ্যাম্বুলেন্সগুলোর নকশা ও প্রযুক্তিগত কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শুধু স্বাস্থ্যখাতেই নয়, দেশীয় শিল্প ও প্রযুক্তি খাতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিদ্যুৎচালিত অ্যাম্বুলেন্স পরিবেশবান্ধব হওয়ার পাশাপাশি পরিচালনা ব্যয়ও তুলনামূলক কম হবে। ফলে কম খরচে আধুনিক ও মানসম্মত অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেশের সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্রকল্প সফল হলে জরুরি রোগী পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার দক্ষতা ও সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে জনগণের জন্য দ্রুত, নিরাপদ ও আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।