স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

ডেস্ক প্রতিবেদক
  ১৬ জুন ২০২৬, ১১:৫৪ এএম

হাম প্রতিরোধে টিকাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র

বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুস্বাস্থ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। পোলিও নির্মূল, শিশুমৃত্যু হ্রাস এবং বিভিন্ন সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে দেশের এই অর্জন আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে হাম রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধি নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কভারেজে সামান্য ঘাটতি এবং সচেতনতার অভাবের কারণে এই প্রতিরোধযোগ্য রোগ আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ জ্বর, কাশি, সর্দি এবং চোখ লাল হওয়ার মাধ্যমে রোগের শুরু হলেও পরবর্তীতে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি, এমনকি মস্তিষ্কের জটিল সংক্রমণও হতে পারে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য হাম মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। এর অন্যতম কারণ হলো নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন, টিকা সম্পর্কে ভুল তথ্যের প্রচার এবং কিছু জনগোষ্ঠীর মধ্যে টিকা গ্রহণে অনীহা। বাংলাদেশও এই বৈশ্বিক প্রবণতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত নয়।

হামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ হলো সময়মতো টিকা গ্রহণ। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের নির্ধারিত বয়সে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা দেওয়া হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, দুটি ডোজ টিকা গ্রহণ করলে অধিকাংশ শিশু আজীবন সুরক্ষা লাভ করে। ফলে টিকাদানের আওতার বাইরে থাকা একটি শিশুও শুধু নিজের জন্য নয়, সমাজের অন্য শিশুদের জন্যও ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বর্তমান বাস্তবতায় হাম নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, টিকা নিয়ে গুজব ও ভুল ধারণার বিরুদ্ধে কার্যকর জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। তৃতীয়ত, দুর্গম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের টিকাদানের আওতায় আনতে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

মনে রাখতে হবে, হাম কোনো সাধারণ রোগ নয়। এটি একটি প্রতিরোধযোগ্য কিন্তু অবহেলা করলে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। একটি শিশুর অসুস্থতা শুধু একটি পরিবারের কষ্ট নয়; এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও একটি সতর্কবার্তা। তাই হাম প্রতিরোধে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র—সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচির অতীত সাফল্য আমাদের আশাবাদী করে। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে প্রতিটি শিশুর কাছে টিকার সুরক্ষা পৌঁছে দিতে হবে। হামমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জনে সচেতনতা, দায়িত্বশীলতা এবং সময়মতো টিকাদানই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।