স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:২৩ পি এম

যুক্তরাষ্ট্রের WHO ত্যাগে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে পরোক্ষ প্রভাবের আশঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যখাতে নানা ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এর প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে বড় আকারে না পড়লেও দীর্ঘমেয়াদে কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে WHO-এর অন্যতম বৃহৎ অর্থদাতা হিসেবে কাজ করেছে। সংস্থাটির বিভিন্ন স্বাস্থ্য কর্মসূচি, রোগ প্রতিরোধ, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতিতে WHO-এর আর্থিক সক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচি, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে WHO গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকে। তবে দেশের স্বাস্থ্যখাত শুধু WHO-এর ওপর নির্ভরশীল নয়। সরকার ছাড়াও Gavi, Global Fund, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা স্বাস্থ্যখাতে সহায়তা প্রদান করে আসছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের ফলে তাৎক্ষণিক কোনো বড় সংকট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা কম।

তবে স্বাস্থ্যনীতি বিশ্লেষকদের মতে, WHO-এর আর্থিক সংকোচন দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য কর্মসূচির পরিধি কমিয়ে দিতে পারে। এর ফলে রোগ নজরদারি, মহামারি মোকাবিলা, গবেষণা সহযোগিতা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য কারিগরি সহায়তা কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোও সেই প্রভাবের বাইরে থাকবে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের নিজস্ব স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা, অভ্যন্তরীণ অর্থায়ন বৃদ্ধি এবং বহুমুখী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের WHO ত্যাগ বাংলাদেশের জন্য তাৎক্ষণিক সংকট তৈরি না করলেও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অর্থায়ন ও সহযোগিতা কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে এর কিছু পরোক্ষ প্রভাব দেশের স্বাস্থ্যখাতে অনুভূত হতে পারে।