স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  ২৯ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ পি এম

ভারতে প্রবেশে আগে পূরণ করতে হবে স্বাস্থ্য ফর্ম

ছবি: সংগৃহীত

আফ্রিকার কয়েকটি দেশে ইবোলার নতুন প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে স্বাস্থ্য নজরদারি আরও কঠোর করেছে ভারত। এ লক্ষ্যে ‘এয়ার সুবিধা ২.০’ (Air Suvidha 2.0) নামে নতুন ডিজিটাল স্বাস্থ্য ঘোষণা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এখন থেকে বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে ভারতে আগত সব আন্তর্জাতিক যাত্রীকে ভ্রমণের আগে অনলাইনে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ঘোষণা ফর্ম পূরণ করতে হবে।

শনিবার (২৭ জুন) প্রকাশিত দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় গত ২৫ জুন নতুন এই ব্যবস্থা চালু করেছে। এটি সব আন্তর্জাতিক যাত্রীর জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যাত্রীদের ভারতে যাত্রার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অনলাইনে স্বাস্থ্য ঘোষণা ফর্ম পূরণ করতে হবে। ফর্মে গত ২১ দিনের ভ্রমণ ইতিহাস, ইবোলা-আক্রান্ত এলাকায় অবস্থান বা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার তথ্য উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি জ্বর, শরীরব্যথা, বমি, ডায়রিয়া বা রক্তক্ষরণের মতো কোনো উপসর্গ থাকলে সেটিও জানাতে হবে।

ভারতে পৌঁছানোর পর আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ডেস্ক বা ইমিগ্রেশন কাউন্টারে এই অনলাইন ফর্ম প্রদর্শন করতে হবে। এর ফলে বিমানবন্দরে আলাদাভাবে কাগজে স্বাস্থ্য ঘোষণা পূরণের প্রয়োজন হবে না। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগ, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যের স্বাস্থ্য নজরদারি সংস্থাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রীদের তথ্য যাচাই করে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।

ভারতের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে আফ্রিকায় ইবোলার সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গত ১৭ মে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ও উগান্ডায় ইবোলার প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে ঘোষণা করে।

বর্তমানে সেখানে ছড়িয়ে পড়া ‘বুন্ডিবুগিও’ (Bundibugyo) ধরনের ইবোলার বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। ফলে সংক্রমণ প্রতিরোধে দ্রুত শনাক্তকরণ, নজরদারি ও আইসোলেশনকেই সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, লালা, বমি, ঘামসহ অন্যান্য শারীরিক তরলের সংস্পর্শে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে। গত পাঁচ দশকে আফ্রিকাজুড়ে ইবোলায় ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে দ্রুত শনাক্তকরণ, কার্যকর নজরদারি এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে বর্তমান প্রাদুর্ভাবও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।