স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

ডেস্ক প্রতিবেদক
  ২০ জুন ২০২৬, ০৩:০৬ পি এম

ব্রেন টিউমার নিয়ে যত অজানা প্রশ্ন ও উত্তর

ছবি: সংগৃহীত

ব্রেন টিউমার নামটি শুনলেই অনেকের মনে ভয় তৈরি হয়। তবে সব ব্রেন টিউমার ক্যানসার নয়, আবার সব ব্রেন টিউমার মৃত্যুর কারণও নয়। এ বিষয়ে মানুষের মনে অসংখ্য প্রশ্ন রয়েছে। নিচে ব্রেন টিউমার সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অজানা প্রশ্নগুলোর উত্তর তুলে ধরা হলো।

১. ব্রেন টিউমার কি সবসময় ক্যানসার?

না। ব্রেন টিউমার দুই ধরনের হতে পারে—

  • বিনাইন (Benign): ক্যানসার নয়, সাধারণত ধীরে বৃদ্ধি পায়।
  • ম্যালিগন্যান্ট (Malignant): ক্যানসারজনিত, দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

২. ব্রেন টিউমার কেন হয়?

এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে কিছু ঝুঁকির কারণ রয়েছে—

  • জিনগত ত্রুটি
  • পারিবারিক ইতিহাস
  • উচ্চমাত্রার বিকিরণ
  • কিছু বিরল জেনেটিক রোগ
  • বয়স বৃদ্ধি

৩. মোবাইলন ব্যবহার করলে কি ব্রেন টিউমার হয়?

বর্তমান বৈজ্ঞানিক গবেষণায় মোবাইল ফোন ব্যবহারের সঙ্গে ব্রেন টিউমারের সরাসরি সম্পর্কের নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে গবেষণা এখনো চলছে।

৪. দীর্ঘদিন মাথাব্যথা কি ব্রেন টিউমারের লক্ষণ?

সব মাথাব্যথা ব্রেন টিউমারের লক্ষণ নয়।

মাথাব্যথার অধিকাংশ কারণ হলো—

  • মাইগ্রেন
  • সাইনোসাইটিস
  • মানসিক চাপ
  • ঘুমের সমস্যা

তবে যদি মাথাব্যথা ক্রমাগত বাড়তে থাকে এবং সঙ্গে বমি, খিঁচুনি বা দৃষ্টিশক্তির সমস্যা থাকে, তাহলে পরীক্ষা করানো উচিত।

৫. ব্রেন টিউমারের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ কী?

  • দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা
  • বমি
  • খিঁচুনি
  • দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া
  • স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া
  • আচরণগত পরিবর্তন

৬. শিশুদেরও কি ব্রেন টিউমার হতে পারে?

হ্যাঁ।

শিশুদের মধ্যে লিউকেমিয়ার পর ব্রেন টিউমার অন্যতম সাধারণ ক্যানসার।

৭. ব্রেন টিউমার কি বংশগত?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নয়।

মাত্র ৫-১০ শতাংশ ক্ষেত্রে জেনেটিক কারণ জড়িত থাকতে পারে।

৮. ব্রেন টিউমার কি ছোঁয়াচে?

একেবারেই না।

একজন আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে অন্য কারও মধ্যে ছড়ায় না।

৯. ব্রেন টিউমার হলে কি সবসময় খিঁচুনি হয়?

না।

অনেক রোগীর খিঁচুনি হয়, আবার অনেকের হয় না।


১০. ব্রেন টিউমার কি এমআরআই ছাড়া ধরা যায়?

প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা যায়, কিন্তু নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করতে সাধারণত MRI সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।

১১. ব্রেন টিউমার কি রক্ত পরীক্ষায় ধরা পড়ে?

সাধারণ রক্ত পরীক্ষায় ধরা পড়ে না।

এমআরআই, সিটি স্ক্যান ও বায়োপসি প্রয়োজন হয়।

১২. ব্রেন টিউমার কি সম্পূর্ণ ভালো হয়?

অনেক ক্ষেত্রে হয়।

বিশেষ করে বিনাইন টিউমার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অপসারণ করা গেলে রোগী স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।

১৩. ব্রেন টিউমার কি আবার ফিরে আসতে পারে?

হ্যাঁ।

বিশেষ করে ম্যালিগন্যান্ট টিউমারের ক্ষেত্রে পুনরায় হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

১৪. ব্রেন টিউমার হলে কি স্মৃতিশক্তি কমে যায়?

হতে পারে।

বিশেষ করে মস্তিষ্কের স্মৃতি নিয়ন্ত্রণকারী অংশ আক্রান্ত হলে।

১৫. ব্রেন টিউমার কি ব্যক্তিত্ব বদলে দিতে পারে?

হ্যাঁ।

কিছু রোগীর আচরণ, আবেগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও ব্যক্তিত্বে পরিবর্তন দেখা যায়।

১৬. ব্রেন টিউমার কি অন্ধত্বের কারণ হতে পারে?

যদি টিউমার চোখের স্নায়ু বা দৃষ্টিকেন্দ্রে চাপ সৃষ্টি করে, তাহলে দৃষ্টিশক্তি আংশিক বা সম্পূর্ণ নষ্ট হতে পারে।

১৭. ব্রেন টিউমার কি পক্ষাঘাত ঘটাতে পারে?

হ্যাঁ।

মস্তিষ্কের চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী অংশ আক্রান্ত হলে শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যেতে পারে।

১৮. অস্ত্রোপচার কি সবসময় প্রয়োজন?

না।

সব টিউমারের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয় না।

কিছু ক্ষেত্রে—

  • পর্যবেক্ষণ
  • রেডিওথেরাপি
  • কেমোথেরাপি

দিয়েও চিকিৎসা করা হয়।

১৯. ব্রেন টিউমার অপারেশন কি খুব ঝুঁকিপূর্ণ?

বর্তমানে উন্নত নিউরোসার্জারির কারণে ঝুঁকি আগের তুলনায় অনেক কমেছে।

তবে ঝুঁকি নির্ভর করে—

  • টিউমারের অবস্থান
  • আকার
  • রোগীর বয়স

ইত্যাদির ওপর।

২০. ব্রেন টিউমার রোগী কতদিন বাঁচেন?

এটির নির্দিষ্ট উত্তর নেই।

নির্ভর করে—

  • টিউমারের ধরন
  • গ্রেড
  • বয়স
  • চিকিৎসার সাফল্য

এর ওপর।

অনেক রোগী চিকিৎসার পর ২০-৩০ বছর বা তারও বেশি সময় সুস্থভাবে বেঁচে থাকেন।

২১. খাদ্যাভ্যাস কি ব্রেন টিউমারে ভূমিকা রাখে?

সরাসরি কারণ নয়।

তবে স্বাস্থ্যকর খাবার রোগীর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

২২. ব্রেন টিউমার কি মানসিক রোগের মতো মনে হতে পারে?

হ্যাঁ।

কখনও কখনও বিষণ্নতা, আচরণগত পরিবর্তন বা স্মৃতিভ্রংশের মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

২৩. নতুন এআই প্রযুক্তি কি ব্রেন টিউমার শনাক্তে বিপ্লব আনবে?

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন এআই প্রযুক্তি কয়েক মিনিটে ব্রেন টিউমারের ধরন শনাক্ত করতে সক্ষম। ভবিষ্যতে এটি দ্রুত ও নির্ভুল রোগনির্ণয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

২৪. ব্রেন টিউমার প্রতিরোধের কোনো নিশ্চিত উপায় আছে?

বর্তমানে নেই।

তবে ঝুঁকি কমাতে—

  • অপ্রয়োজনীয় বিকিরণ এড়িয়ে চলা
  • স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন
  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
  • সন্দেহজনক উপসর্গে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া

গুরুত্বপূর্ণ।

২৫. কোন লক্ষণ দেখলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে?

  • প্রথমবার খিঁচুনি হওয়া
  • হঠাৎ কথা জড়িয়ে যাওয়া
  • শরীরের একপাশ অবশ হয়ে যাওয়া
  • অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
  • তীব্র মাথাব্যথা ও বমি
  • দৃষ্টিশক্তি দ্রুত কমে যাওয়া

মনে রাখুন

ব্রেন টিউমার মানেই মৃত্যু নয়। আধুনিক চিকিৎসা, উন্নত অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন রোগনির্ণয় প্রযুক্তির কারণে বর্তমানে অনেক রোগী দীর্ঘদিন সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। রোগ যত দ্রুত শনাক্ত হবে, সফল চিকিৎসার সম্ভাবনাও তত বেশি হবে।