স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

ডেস্ক প্রতিবেদক
  ২৯ জুন ২০২৬, ১১:৩৭ পি এম

অ্যাজমা নিয়ে যত প্রশ্ন ও তার উত্তর

ছবি: সংগৃহীত

অ্যাজমা (Asthma) একটি দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগ। এতে শ্বাসনালিতে প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং তা সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, কাশি, শোঁ-শোঁ শব্দ ও বুকে চাপ অনুভূত হয়। সঠিক চিকিৎসা ও নিয়ম মেনে চললে অধিকাংশ অ্যাজমা রোগী স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।

১. অ্যাজমা কী?

অ্যাজমা হলো শ্বাসনালির দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত রোগ, যেখানে শ্বাসনালি অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে বিভিন্ন কারণে সংকুচিত হয়ে যায়।

২. অ্যাজমার প্রধান লক্ষণ কী?

  • শ্বাসকষ্ট
  • শ্বাস নেওয়ার সময় শোঁ-শোঁ শব্দ
  • দীর্ঘদিনের বা বারবার কাশি
  • রাতে বা ভোরে কাশি বেড়ে যাওয়া
  • বুকে চাপ বা ভারী লাগা

৩. কেন অ্যাজমা হয়?

অ্যাজমার নির্দিষ্ট একক কারণ নেই। বংশগত প্রবণতা ও পরিবেশগত কারণ একসঙ্গে কাজ করে।

৪. কারা বেশি ঝুঁকিতে?

  • পরিবারে অ্যাজমার ইতিহাস থাকলে
  • অ্যালার্জিতে ভুগলে
  • ধূমপান করলে বা ধূমপানের ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকলে
  • বায়ুদূষণের মধ্যে বসবাস করলে
  • স্থূলতায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা

৫. অ্যাজমা কি সংক্রামক?

না। এটি একজনের কাছ থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়ায় না।

৬. অ্যাজমা কি পুরোপুরি ভালো হয়?

এটি সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি রোগ। পুরোপুরি নির্মূল না হলেও নিয়মিত চিকিৎসা ও ইনহেলার ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

৭. অ্যাজমা বাড়িয়ে দেয় কী কী?

  • ধুলাবালি
  • ফুলের রেণু
  • ধোঁয়া
  • ঠান্ডা বাতাস
  • ভাইরাসজনিত সর্দি-কাশি
  • তীব্র সুগন্ধি
  • পশুপাখির লোম
  • অতিরিক্ত ব্যায়াম
  • মানসিক চাপ

৮. অ্যাজমা হলে কি ইনহেলার ব্যবহার নিরাপদ?

হ্যাঁ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইনহেলারই সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ চিকিৎসা। এটি সরাসরি ফুসফুসে ওষুধ পৌঁছে দেয় এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও তুলনামূলক কম।

৯. ইনহেলার কি সারাজীবন ব্যবহার করতে হয়?

সব রোগীর ক্ষেত্রে নয়। রোগের তীব্রতা অনুযায়ী চিকিৎসক প্রয়োজন হলে ওষুধ কমাতে বা পরিবর্তন করতে পারেন।

১০. অ্যাজমা রোগী কি ব্যায়াম করতে পারবেন?

অবশ্যই পারবেন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করে এবং উপযুক্ত ব্যায়াম নির্বাচন করতে হবে। হাঁটা, সাঁতার ও হালকা ব্যায়াম উপকারী।

১১. অ্যাজমা রোগীর খাবারে কোনো নিষেধ আছে?

সবার জন্য একই নিষেধ নেই। যে খাবারে অ্যালার্জি হয়, তা এড়িয়ে চলতে হবে। ফল, শাকসবজি ও সুষম খাদ্য গ্রহণ উপকারী।

১২. শিশুদের অ্যাজমা কি বড় হলে সেরে যায়?

কিছু শিশুর ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে উপসর্গ কমে যেতে পারে। তবে অনেকের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক বয়সেও থেকে যায়।

১৩. অ্যাজমা অ্যাটাক হলে কী করবেন?

  • রোগীকে সোজা হয়ে বসান।
  • চিকিৎসকের দেওয়া রিলিভার ইনহেলার ব্যবহার করুন।
  • আঁটসাঁট পোশাক ঢিলা করুন।
  • দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন, যদি শ্বাসকষ্ট না কমে।

১৪. কখন জরুরি হাসপাতালে যেতে হবে?

  • কথা বলতে কষ্ট হলে
  • ঠোঁট বা নখ নীলচে হয়ে গেলে
  • ইনহেলারেও উপশম না হলে
  • দ্রুত শ্বাস নিতে থাকলে
  • রোগী অচেতন বা বিভ্রান্ত হয়ে পড়লে

১৫. অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায় কী?

  • নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।
  • ইনহেলার সঠিকভাবে ব্যবহার করুন।
  • ধূমপান ও ধোঁয়া এড়িয়ে চলুন।
  • ধুলাবালি ও অ্যালার্জির উৎস থেকে দূরে থাকুন।
  • প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ করুন।
  • শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

১৬. অ্যাজমা নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা কী?

  • ভুল: ইনহেলার ব্যবহার করলে অভ্যাস হয়ে যায়।
    সত্য: এটি নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা।
  • ভুল: অ্যাজমা রোগীরা খেলাধুলা করতে পারেন না।
    সত্য: নিয়ন্ত্রণে থাকলে স্বাভাবিক খেলাধুলা ও ব্যায়াম করা সম্ভব।
  • ভুল: কাশি না থাকলে অ্যাজমা নেই।
    সত্য: অনেক সময় শুধু শ্বাসকষ্ট বা শোঁ-শোঁ শব্দই প্রধান লক্ষণ হতে পারে।

১৭. অ্যাজমা প্রতিরোধ করা সম্ভব?

বংশগত কারণ প্রতিরোধ করা না গেলেও ধূমপান বর্জন, বায়ুদূষণ এড়িয়ে চলা, অ্যালার্জির কারণ শনাক্ত করা এবং নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমে অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

মনে রাখুন

অ্যাজমা অবহেলা করার মতো রোগ নয়। তবে সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করা, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইনহেলার ও ওষুধ ব্যবহার এবং জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনলে অধিকাংশ রোগী সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।