স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
ঢাকা:‘ভয় নয়, সচেতনতা। বিলম্ব নয়, সময়মতো চিকিৎসা’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে জাতীয় শিশু ক্যান্সার সচেতনতা মাস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্যাডিয়াট্রিক হেমাটোলজি অ্যান্ড অনকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের উদ্যোগে শনিবার সকালে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
একই সঙ্গে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে মানববন্ধন ও প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। শিশু ক্যান্সার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, রোগের প্রাথমিক সতর্কতামূলক লক্ষণ সম্পর্কে অভিভাবকদের অবহিত করা এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসা গ্রহণে উৎসাহিত করাই ছিল এসব কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিএমইউর উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি অ্যান্ড অনকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আফিকুল ইসলাম।
সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ডা. চৌধুরী শামসুল হক কিবরিয়া।
এ সময় বিএমইউর শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. আতিয়ার রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগ এবং শিশু অনুষদভুক্ত বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক ও রেসিডেন্টরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের শিশু বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসক এবং পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি অ্যান্ড অনকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সদস্যরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম শিশু ক্যান্সার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি শিশুদের ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন করার পাশাপাশি সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান।
অধ্যাপক ডা. আফিকুল ইসলাম বলেন, শিশু ক্যান্সার সচেতনতা মাস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে ক্যান্সার শুধু বয়স্কদের রোগ নয়, শিশুরাও এ কঠিন রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
তাই শিশু ক্যান্সার সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ ও সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি জানান, শিশু ক্যান্সার সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯০ সালে শুরু হয়।
পরবর্তীতে ২০১০ সালে সেপ্টেম্বর মাসকে আনুষ্ঠানিকভাবে শিশু ক্যান্সার সচেতনতা মাস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
এর মূল উদ্দেশ্য হলো শিশু ক্যান্সার সম্পর্কে মানুষের ধারণা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণ, গবেষণাকে উৎসাহিত করা এবং আক্রান্ত শিশু ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ডা. চৌধুরী শামসুল হক কিবরিয়া বলেন, শিশু ক্যান্সার মোকাবিলায় শুধু চিকিৎসা দিলেই হবে না; একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসার আওতায় আনা প্রয়োজন।
হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, চিকিৎসক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে শিশু ক্যান্সার নিয়ে ভুল ধারণা ও অযথা ভয় কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসা গ্রহণে বিলম্বও কমবে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, কোনো শিশুর দীর্ঘদিন বা বারবার জ্বর, অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে ভাব, শরীরে কালশিটে দাগ, অস্বাভাবিক রক্তপাত, হাড়ে ব্যথা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা কিংবা আচরণে হঠাৎ পরিবর্তনের মতো লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে শিশু ক্যান্সারের প্রকৃত সংখ্যা এখনো সম্পূর্ণভাবে জানা যায় না। দেশে এখনো পূর্ণাঙ্গ জাতীয় শিশু ক্যান্সার নিবন্ধন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। বিভিন্ন গবেষণা ও হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর দেশে হাজার হাজার শিশু নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে।
তবে অনেক শিশুর রোগ সময়মতো শনাক্ত হয় না এবং অনেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার আওতায়ও আসতে পারে না।
বিশেষজ্ঞরা জানান, দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়া, চিকিৎসার উচ্চ ব্যয়, চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানোর অসুবিধা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সহায়ক চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা এবং চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রেখে দেওয়া বাংলাদেশের শিশু ক্যান্সার চিকিৎসার বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তারা বলেন, শিশু ক্যান্সার সচেতনতা মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশব্যাপী শিশু ক্যান্সারের তথ্য সংরক্ষণ ও নিবন্ধন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
পাশাপাশি চিকিৎসার সুযোগ আরও বিস্তৃত করা এবং প্রতিটি শিশুর জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
র্যালি ও মানববন্ধনের মাধ্যমে বক্তারা শিশু ক্যান্সারকে ঘিরে ভয় ও ভুল ধারণা দূর করে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসার বিষয়ে অভিভাবক ও সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।